ত্রিশালে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকীর অভিযোগ

33

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে দোকানের জায়গা দখল, দোকানের মালামাল লোটপাট, প্রাণ নাশের হুমকী ও শালিশের নামে শফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের চকরামপুর বাজারে শফিকুল ইসলামের ক্রয়কৃত জমির উপর নির্মিত বাসা দখল বুঝে নিতে গেলে তার সহদোর ছোট ভাই তাজাম্মুল ইসলাম বাধা দিয়ে প্রান নাশের হুমকী দেয়। সে শফিকুল ইসলামের সাব কাওলা জমিতে প্রাচীর নির্মানের মাধ্যমে দখলের পায়তারা করছে। ভোক্তভোগী শফিকুল ইসলাম তার জমি বুঝে নিতে গেলে তার ভাই এলাকায় শালিশের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলে ডেকে নিয়ে হামলা চালায়। শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় তাজাম্মুল ইসলামসহ ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

ভোক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের তিন ভায়ের নামে দেড় কাঠা জমিতে তিনটি দোকান ঘর রয়েছে। প্রত্যেক ভাই আধা কাঠা জমির মালিক। আমি আমার অংশ আমার ছেলে সন্তান না থাকায় স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে লিখে দেই। এর পর থেকে আমার ছোট ভাই তাজাম্মুল আমার অংশের দখল দিচ্ছেনা। সে আমার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকীসহ আমার মুদি দোকান পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। সে কয়েকমাস আগে আমার মনিহারী দোকানের গোডাউনে থাকা ১২ লাখ টাকার মালামাল রাতের অন্ধকারে চুরি করে নিয়ে গেছে। সে এলাকায় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরও নিয়ে এ ঘটনায় শালিশ ডেকেছিল আমি ও আমার আপন বড় ভাই রুহুল আমীন শালিশে সে সে তার লোক দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই। আমার জমির বৈধ দলিল আছে। সরকার নিয়ম করেছে দলিল যার জমি তার।

শফিকুল ইসলামের স্ত্রী নাছিমা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের ঘরে ছেলে সন্তান না থাকায় তাজাম্মুল জমি নিয়ে প্রতি নিয়তই অত্যাচার করে। তাই আমার স্বামী আমার দুই মেয়ে ও আমার নামে জমি লিখে দেয়। লিখে দেওয়ার পর আমার জায়গায় সিমানা প্রাচীর করতে দিচ্ছেনা তাজাম্মুল। সে আমাদের মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমার বৈধ জায়গা আমি বুঝে পেতে চাই। আমি কোন গেনজাম চাইনা।

এ বিষয়ে তাজাম্মুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার ভাইকে মেরে ফেলার কোন হুমকী দেয়নি। আর দোকানের জায়গা আমাদের তিন ভায়ের নামে। শফিকুল ভাই নিজেই ঘর করে দিয়েছেন। এখন তিনি ঘর ভেঙ্গে জায়গা দখল নিতে চাচ্ছেন। তার দলিলে অনুযায়ী তিনিতো জায়গা পান, এমন প্রশ্ন করা তিনি বলেন, জায়গা দখলে যে আছে সে ঐ মালিক। আমাদের আরেক ছোট ভাই রয়েছে সে নাবালক থাকায় তার নামে দলিল হয়নি আমার বড় ভাই রুহুল তাকে কিছু অংশ দিয়েছে। কিন্তু শফিকুল ভাই দিচ্ছেনা। আমার বিরুদ্ধে গোডাউনের মাল চুরির অভিযোগ করছে তা সত্য নয়।

এ বিষয়ে শফিকুলের বড় ভাই রুহুল আমীন বলেন, আমরা চার ভাই। জমিটি তিন ভায়ের নামে। ছোট ভাই তখন নাবালক ছিল। আমি আমার অংশ থেকে ছোট ভাইকে কিছুৃ দিলেও তারা দুই ভাই কিছু দেয়নি।শফিকুল দলিল অনুযায়ী জমির বৈধ মালিক।শফিকুল তার অংশ স্ত্রী-কন্যাদের নামে লিখে দিয়েছে এখন তারা জমির মালিক। আমার ছোট ভাই তাজাম্মুল তাদের জায়গা দখল দিচ্ছেনা। সে শালিশ ডেকে শফিকুল ও আমাকে ডেকে নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ বলেন, আমার কাছে দুই পক্ষের কেওই এমন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখবো।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পূর্বের খবরনজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম দপ্তর প্রতিষ্ঠিত
পরবর্তি খবরত্রিশালে ক্ষেতের আইল কাটা নিয়ে সংঘর্ষে একজন খুন, ১০জন আহত