কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে লন্ডনে বিক্ষোভ,ভারতীয় হাইকমিশনে ভাংচুর

কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশন ভবনের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে হাজার হাজার লোক অংশ নিয়েছেন।

পরে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে হাইকমিশনে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে দ্বিতীয়বারের মতো এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হল।

গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটিতে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন।

এ সময় নিজেদের পতাকা হাতে আজাদির স্লোগান দেনে তারা। তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এটাকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় চার ব্যক্তিকে আটক করেছে লন্ডনের পুলিশ। তাদের কাছ থেকে এক ফুট লম্বা একটি ড্যাগার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এর আগের বিক্ষোভে অন্তত ১৫ হাজার লোক অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিক্ষোভে সেই সংখ্যাটা ছিল আরও বেশি।

বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে আসলে তাদের সব দিক থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ। তারা ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে হাইকমিশনের দিকে জুতা, ডিম ও পানির বোতল ছুড়ে মারেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে দিল্লি। কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিতে ভারতকে চাপ দেওয়া উচিত জাতিসংঘের।

সুমাইয়া শাহ নামের এক নারী জানান, কাশ্মিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তিনি। কারণ পুরো কাশ্মিরের জনগণকে লকডাউন ও কারফিউ পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে ভারত। আমি জানি না, বাবা-মায়ের ওষুধ ও খাবার আছে কিনা। আমার মায়ের ডায়বেটিক, তিনি ইনসুলিন নিচ্ছেন।

পাকিস্তানভিত্তিক জিও টিভি জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে #কাশ্মির_ফ্রিডম_মার্চ (#KashmirFreedomMarch)। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই কাশ্মিরি বংশোদ্ভূত। বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত অঞ্চলটিতে ভারতীয় বাহিনীর কারফিউ এবং সরকারের চাপিয়ে দেওয়া যোগাযোগ বিপর্যয়ের শিকার মানুষদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-এর ডাকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমর্থন দেয় যুক্তরাজ্যের সবকটি পাকিস্তানি ও কাশ্মিরি সংগঠন। যুক্তরাজ্যে তেহরিক-ই-ইনসাফ, মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোর শাখা সংগঠনের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে কাশ্মির। মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে সেখানকার জনশূন্য রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র সেনারা।