শিশু কথা বলে না! কান পরীক্ষা করান

আপনার সন্তান যদি ২/৩ বছর বয়সেও কথা বলতে না শেখে, তা হলে তার কান পরীক্ষা করানো জরুরি। কথা শিখতে না পারার অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসাযোগ্য কারণ হলো কানে না শোনা।

কানে শোনা আমাদের অন্যদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে। একটি শিশুর ভাষা শিক্ষার পুরোটাই নির্ভর করে তার কানে শোনার সামর্থ্যরে ওপর। যেমনটা শুনে সে অভ্যস্ত, তার ভাষাও ঠিক সে রকমই হয়। যারা কানে শুনতে পারে না, তারা কথা বলতেও পারে না। এর কারণ হলো, কথা বলা সে শিখতেই পারে না। অপরদিকে অন্ধরা চোখে দেখতে পারে না। কিন্তু যেহেতু তারা কানে শুনতে পারে, সেহেতু তারা অন্তত মাতৃভাষায় কথাটুকু বলতে পারে। দৃষ্টিশক্তি হারানো মানে নিজেকে বস্তু বা জিনিস থেকে পৃথক করা আর শ্রবণশক্তি হারানো মানে নিজেকে মানুষ থেকে পৃথক করা। একটি শিশু কথা বলতে শেখে কানে শুনে। বাবা-বা মাকে দেখিয়ে যখন বলা হয় ‘এটা তোমার মা’ তখন সে ‘মা’ বলতে শেখে। কানে না শুনলে কথা বলা সম্ভব নয় এ কারণে যে, তার ভাষা যে কী, কোনো দিন সে তা জানতেই পারে না।

আরেকটি কথাও সত্য, একটি লোক কানেও শুনত আবার কথাও বলতে পারত। কিন্তু হঠাৎ যদি তার কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, তবে কি সে বোবা হয়ে যাবে? না, সে বোবা হবে না। কারণ একটাই কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আগেই ভাষাজ্ঞান আয়ত্ত করেছিল সে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, শুনতে সক্ষম এমন অনেক নবজাতকেরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কারণে শ্রবণক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে।

শিশুদের কানে শোনার অসুবিধাটি একেবারে শুরুতেই শনাক্ত করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, শিশুর জন্য ততই মঙ্গল। নইলে বছরের পর বছর অনেকটা সময় ধরে বিষয়টি অনাবিষ্কৃত থেকে যাবে এবং সমস্যাটি আরও তীব্রতর হবে। ফলে শিশুকে মানানসই ভাষা শিক্ষা দেওয়া এবং স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা সম্পন্ন করে তোলা অত্যন্ত কঠিন হবে।

কানে কম শোনার লক্ষণ শুরুর ছয় মাস আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হলে বিলম্বে শনাক্তকরণের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়াশীল ফলাফল পাওয়া যায়। কিছু কিছু দেশে জন্মের প্রথম মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে কানে শোনার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। আমাদের দেশে এমন কোনো প্রোগ্রাম এখনো নেই।

তবে বারডেমসহ অন্যান্য আরও কয়েকটা হাসপাতালে এই পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সুতরাং সময়মতো ব্যবস্থা নিন। আপনার সন্তানের কান পরীক্ষা করান। আর নিশ্চিত হয়ে নিন যে, সে ঠিকমতো কানে শুনছে কিনা। তা হলে সে ঠিকমতো কথাও বলতে শিখবে।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক,
শিশু ও নবজাতক বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল)
সেগুনবাগিচা, ঢাকা