কাশ্মিরে অবরুদ্ধ ঈদ, বেশিরভাগ মসজিদে নামাজ আদায় হয়নি

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর থেকেই সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে রোববার ফের জরুরি অবস্থা জারি করায় সোমবার ঈদের দিনও কাশ্মিরের পথ-ঘাট জুড়ে ছিলো নির্জনতা। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঈদের দিন রাজধানী শ্রীনগরসহ রাজ্যের ছোট ছোট মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। তবে বড় মসজিদগুলোতে নামাজ আদায়ের অনুমতি মেলেনি।

নিরাপত্তা চৌকি, নজরদারি আর কারফিউয়ের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে পড়েছে কাশ্মিরিদের ঈদের আনন্দ। প্রতি বছরই ঈদুল আজহার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে উৎসবের ঢেউ লেগে যায় উপত্যকায়। দলবেধে মানুষ বাজারে যায়; পোশাকসহ বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম কেনে। বেকারির দোকানগুলোতে সাজসাজ রব পড়ে যায়। তবে এবারের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি অনলাইন জানায়, ভারত সরকার শ্রীনগরসহ রাজ্যের বেশিরভাগ মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি। এর ফলে ভারত নিয়ন্ত্রিত মুসিলম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ রাজ্যটিতে এবার ঈদের তেমন কোন আমেজ নেই। নেই কোন আনন্দ।

জম্মু-কাশ্মিরের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার স্থানীয় মসজিদে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে কড়া সামরিক নিরাপত্তার কারণে এবার কোরবানির প্রস্তুতিও নিতে পারেনি কাশ্মিরের বাসিন্দারা। কোরবানির জন্য ভেড়াই তাদের প্রিয়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে সামরিক নিরাপত্তা জোরদার করায় কোরবানির পশু কেনা-বেচা হয়নি। ফলে কোরবানি না দিয়েই এবারের ঈদুল আজহা পালন করছেন তারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাজ্যের সবকটি এটিএম বুথ ও ব্যাংক বন্ধ হয়ে আছে। তাই টাকা তুলতে পারেননি। তাছাড়া সামরিক নিরাপত্তার কারণে ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রি করতে বের হননি। যা কয়টি কোরবানির পশু পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর অনেক দাম। তাই এবার কোরবানি দেওয়া তার ভাগ্যে নেই।

প্রতিবছর কাশ্মিরে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে উৎসব শুরু হয়। রাস্তা-ঘাট ও মার্কেটগুলোতে ধুম পড়ে কেনাকাটার। কিন্তু এবার সেসবের কিছুই নেই। গুটি কয়েক দোকানপাট ছাড়া বাকি সবই বন্ধ। তাই কেনাকাটা করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া ১৪৪ ধারা জারির কারনে ঘর থেকেও বের হতে পারছেন না অনেকে।