চামড়ার বাজারে অস্থিরতা -মো. রেজাউল করিম সবুজ

মুসলিম জাতির ধর্মীয় উৎসগুলোর অন্যতম হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আয্হা বা কোরবানীর ঈদ। ঈদ হচ্ছে আনন্দ বা খুশি। এই আনন্দ ধনী-গরীব, ছোট-বড় সকল শ্রেণীর জন্য। ঈদুল আযহা হচ্ছে আত্মত্যাগের ঈদ। আরবী জিলহজ মাসের দশ তারিখ ঈদুল আযহা পালিত হয়। এ বছর আরবী ১৪৪০ হিজরী অর্থাৎ ইংরেজি ১২ আগস্ট বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে ঈদ উদ্যাপিত হবে। আমরা মুসলমানরা মহান আল্লাহ তায়ালাকে রাজি ও খুশি করার জন্য কুরবানী করে থাকি। মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই অর্থাৎ আদম (আঃ) এর যুগ থেকেই কুরবানীর বিধান চলে আসছে। মুসলিম জাতি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর একমাত্র পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে কুরবানীর করার যে নজির স্থাপন করেছিলেন সেই নজির থেকেই কুরবানী করে থাকেন। ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ, ঈদুল আযহা সেটা মনে করিয়ে দেয়। এই ত্যাগের দিনে আমাদের ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি মনের পশুকেও কুরবানী করতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে কুরবানী করা হলেও তিনি ইহা থেকে কোন কিছু গ্রহণ করেন না। এতে রয়েছে গরীরের অধিকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুরবানীর পশুর চামড়া। আমাদের দেশে সাধারণত কুরবানীর পশুর চামড়া এতিমখানা মাদ্রাসায় দান করা হয় বা চামড়া বিক্রি করে এর টাকা দরিদ্র ছাত্র বা দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। যা দিয়ে দরিদ্র ও এতিম ছাত্ররা সারা বছরের লেখা-পড়ার খরচ সংগ্রহ করে থাকে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ চামড়ার বাজার সর্বনি¤œ পর্যায়ে রয়েছে। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও কুরবানীর পশুর চামড়া উচ্চ মূল্যে বিক্রি হতো। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কুরবানীর চামড়া পানির দামে ক্রয় করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে নিজেরা টাকার পাহাড় গড়ছে। অন্য দিকে কুরবানীর চামড়ার দাম কম হওয়ায় এতিম দুস্থ দরিদ্র ছাত্র ও দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় বছরে যে পরিমান চামড়া সংগ্রহ করা হয় তার অর্ধেক সংগ্রহ করা হয় কুরবানীর ঈদে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়-দেশে এবছর আনুমানিক এক কোটি ১০ লক্ষ পশু কুরবানী হতে পারে। চামড়ার বাজার মোটামোটি থাকলে গড়ে ৮০০ টাকা করে ধরলে দেখা যায় আটশত আশি কোটি টাকা দাড়ায়। যা দিয়ে বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাবলম্বী করা সম্ভব। দেশে চামড়ার বাজার যদি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর হাত থেকে রক্ষ করা যায় তাহলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। চামড়ার দাম সর্বনি¤œ পর্যায়ে থাকলেও চামড়ার তৈরী পণ্য যেমন-চামড়ার জ্যাকেট, জুতা, ব্যাগ, সান্ডেল, মানিব্যাগসহ চামড়ার তৈরীর পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। আমরা প্রত্যাশা করি, আসন্ন কুরবানীর ঈদে চামড়ার বাজার হোক সিন্ডিকেট মুক্ত, স্থিতিশীল, চামড়ার হকদাররা পাক ন্যাযমূল্য এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।