কলমাকান্দায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক গ্রাম প্লাবিত

তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ১৫টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবারের ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে হান্নান মিয়া (২৩) নামের এক যুবক নিখোঁজ হবার ২৪ ঘণ্টা পরও শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার বাড়ির পাশে গণেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বন্যার পানির শ্রোতে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ হান্নান কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়নের চৈতা গ্রামের আহমেদ মিয়ার ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কলমাকান্দার পাচগাঁও নদীর বেরী বাঁধ ভেঙে উপজেলার সীমান্তবর্তী রংছাতি, খারনৈ ও লেংগুরা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার বন্যার পানির কবলে পড়েছে।

বন্যায় ভেঙেছে শতাধিক ঘর। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার কাচা রাস্তা। ভেসে গেছে অর্ধশত পুকুরের চাষ করা মাছ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিলি লিটার। এভাবে পানি বাড়লে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই নতুন করে কলমাকান্দা সদর, পোগলা, বড়কাপন, নাজিরপুর ও কৈলাটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের আরো অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত গ্রামসমূহ হলো- রংছাতি ইউনিয়নের পাচগাঁও, ধারাপাড়া, নয়া চৈতাপাড়া, রামনাথপুর, নংক্লাই, কৃষ্টপুর, রায়পুর, নতুন বাজার, বারমারা, খারনৈ ইউনিয়নের সুন্দরীঘাট, বাউশাম, ভাষানকুড়া, লেংগুরা ইউনিয়নের চৈতা, লেংগুরা বাজার, ফুলবাড়ি, ঝিগাতলা ও শিবপুর।

পানিবন্দি ওই সব গ্রামের লোকজন এখন চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তারা কেউ আছেন বাড়িতে মাচা বেঁধে। কেউবা আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদে থাকা স্বজনদের বাড়িতে। বন্যাকবলিত অধিকাংশ পরিবার রয়েছে খাদ্য সংকটে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর না নেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রংছাতি ইউনিয়নের শিংকাটা গ্রামের নূরুল ইসলাম ও চৈতা গ্রামের ইসমাইল মিয়া বলেন, আমরা ভোর থেকে পানিবন্দি হয়ে আছি। অথচ স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের খোঁজ নিতে কেউই আসেনি। বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় রান্না করে খেতে পারছেন বলেও জানান তারা।

কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী নকলাই গ্রামের বাসিন্দা মাহালার মারটিং রংরিং বলেন, বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আমার বসতঘরটি ভেঙে গেছে।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুন জানান, এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনিসহ পরিষদের সদস্যরা প্রশিক্ষণে আছেন। এতে করে তারা এলাকায় যেতে পারছেন না।

বন্যায় ওই সব ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, তিনিসহ স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তালুকদার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।