ত্রিশালে বোরো ধানে নেকব্লাস্ট রোগের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

ফারুক আহমেদ,ত্রিশাল :
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ধানে চিটা হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ছলিমপুর, চিকনা মনোহর, চরপাড়া, পাঁচপাড়া, সতরপাড়া, ও গোলাভিটা গ্রামের বোরো মৌসুমে চাষকৃত ব্রিধান-২৮, বিধান-২৯, ব্রিধান-৫৮ এবং ছক্কা জাতের হাইব্রিড ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ব্রিধান-২৮ জাতে এ রোগের আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে বেশি। কোনে কোনো চাষির জমিতে উৎপাদিত ধানের শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ চিটা হয়ে গেছে। ওই সকল কৃষক ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারবেন না। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ব্লাস্ট দমনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু‘ ধানের দাম কম থাকার কারণে অনেক কৃষক ধানের জমিতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগে অনীহা প্রকাশ করছেন। জানা যায়, এ রোগের আক্রমণে ফলন শতভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।শিশির বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সময় ধানের ডিগ পাতা ও শীষের গোড়ার সংযোগ ধানে পানি জমে। ফলে উক্ত স্থানে ব্লাস্ট রোগের জীবাণু আক্রমণ করে কালচে বাদামি দাগ তৈরি করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত শীষের গোড়া পচে যাওয়ায় গাছের খাবার শীষে যেতে পারে না, ফলে শীষ শুকিয়ে দানা চিটা হয়ে যায়। নেক ব্লাস্টের আক্রমণে ইতোমধ্যে ছলিমপুর মধ্যপাড়ার লিয়াকত আলী খানের প্রায় ০.৩৭ একর জমির ধানের প্রায় ২৫ ভাগ চিটা হয়ে গেছে।ছলিমপুর দক্ষিণ পাড়ার মিজানুর রহমানের ০.৭৫ একর জমিতে নেক ব্লাস্টের দেখা দেয়ায় তিনি ট্রুপার নামক ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেন।ওই একই গ্রামের হোসেন মিয়ার প্রায় ০.৪২ একর জমিতে নেক ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ছলিমপুর ছাড়াও পাঁচপাড়া, সতরপাড়া, গোলাভিটা, ও চিকনা মনোহর গ্রামের অনেক ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্টের আক্রমণের কারণে কৃষক দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।কৃষকরা জানান, আইরাদির মাঠে ব্রিধান-২৮ জাতে নেক ব্লাস্ট রোগের কারণে বহু লোকের বোরো ধান একেবারে চিটা হয়ে গেছে। তবে ব্রিধান-২৯ জাতে নেক ব্লাস্ট তেমন ব্যাপকতা লাভ করেনি। মাত্রামোতাবেক অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে বিধান-২৯ জাতের ক্ষেতের ধান ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞগণ।
এ ব্যাপারে ত্রিশালের কৃতি সন্তান ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সাবেক মহাব্যপস্থাপক কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র রায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে লিফলেট বিতরণ করে চলেছেন এবং তিনি মৌসুমের শুরুতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চাষীদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,উপজেলার সব জায়গায় এ সমস্যা নেই।তবে কোথাও কোথাও এ সমস্য রয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস মৌসুমের শুরুতে চাষিদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে আসছে।