দৌলতপুর সংবাদ, শিরোনাম ও ছবি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক।বৈঠক।

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘সংবাদ, শিরোনাম ও ছবি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সেমিনার কক্ষে এই গোলটেবিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব (একাংশ) ও কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, দৈনিক আরশীনগর সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব। বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য মাহমুদ হাসান।

ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক তাশরিক সঞ্চয়ের সঞ্চালনায় সংবাদ বিষয়ক এ অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন দৌলতপুর প্রেসক্লাব একাংশের সভাপতি এম এস শাহীন, কুষ্টিয়া সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলীম সাচ্চু, দৌলতপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম খোকন, ভোরের কাগজ ও বার্তা সংস্থা এনএনবি প্রতিনিধি: এস আর সেলিম, দৈনিক নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি: আহাদ আলী নয়ন, সমকাল প্রতিনিধি: আহমেদ রাজু, আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি: ফিরোজ কায়সার আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক সময়ের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার রনি আহম্মেদ, অনলাইন ৭১ বাংলা টিভি প্রতিনিধি: আসানুল হক, দৈনিক আরশীনগর প্রতিনিধি: হেলাল উদ্দিন,কোলকাতা টিভি প্রতিনিধি: সোহানুর রহমান শিপন, এস টিভি বাংলা প্রতিনিধি: জিল্লুর রহমান, দৈনিক সোনালী খবর প্রতিনিধি: সোহেল রানা, স্থানীয় সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান, মাসুদ রানা, সময়ের দিগন্ত প্রতিনিধি: আলাউদ্দিন ও  সুজন, আজকের সূত্র পাত প্রতিনিধি: আশিক। পরে প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছাড়াও বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে মুক্ত আলোচনায় কথা বলেন উপস্থিত সবাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক সাংবাদিক নেতা রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমাদের দেশে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ আছে তার মানে এই নয় যে মুসলমানরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সুতরাং আমাদের সাংবাদিক সংগঠনও একাধিক হয়ে থাকলে তাতে কোনো সমস্যা নাই। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশেই সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু পেশাগত জায়গায় যেন সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে সক্ষম হবো। বিপ্লব বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন থাকাটা অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

 ভিন্ন ভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজ উন্নয়নের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। আলাদা অবস্থানে থাকলেও সব সংগঠনের লক্ষ্য একটাই। তিনি বলেন, কোনো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় যদি তিনজন নিহত হন সে ক্ষেত্রে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের যেমন কোনো সুযোগ থাকে না। ঠিক তেমনিভাবে সাংবাদিকরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পেশাগত দায়িত্ব পালনের বেলায় তাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকে না। অর্থাৎ এক সংগঠনের সাংবাদিকরা বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন, আরেক সংগঠনের সাংবাদিকরা তিনজন নিহতের কথা বলতে পারেন না। খবর পরিবেশনের কিংবা তথ্য উপস্থাপনের ধরন আলাদা হলেও খবরের মৌলিক বিষয়বস্তু এড়িয়ে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

কুষ্টিয়ার একাধিক সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, স্থানীয় একাধিক সংবাদপত্রের প্রকাশক ও সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তিনি এর আগে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। সাংবাদিক নেতা বিপ্লবের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার ডাংমড়কা এলাকায়। বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত নাহারুল ইসলামও একজন প্রবীণতম সাংবাদিক ছিলেন। বাংলার বাণীতে কাজ করতেন। মূলত এ উপজেলার সন্তান হওয়ায় এই গোলটেবিল অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি সম্মতি জানিয়ে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে উপজেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, একাধিক কেন্দ্রীয় সাংবাদিক সংগঠনের সংগঠক সাংবাদিক তাশরিক সঞ্চয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সাথে যুক্ত সাংবাদিকদের এক সঙ্গে জড়ো করা এবং একই সাথে নবীন সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে সংবাদ বিষয়ক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সঞ্চয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত উপজেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকায় অনুষ্ঠানটি সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সব বিভাজন ভুলে সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক আলোচনায় মিলিত হন। ফলে শুক্রবারের সন্ধ্যাটি সবার কাছেই দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।