মাদক ব্যবসা কে আড়াল করতে কুষ্টিয়ার সেই ‘ছাগল’নিয়ে নাটক!

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডী গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে, ইসমাইল, মা’কে সাথে নিয়ে ১০০ কেজি ওজনের ছাগল উপহার দিতে চান প্রধানমন্ত্রীকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি পোস্ট কে কেন্দ্র করে খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। পরে এ খবর ভাইরাল হয় বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের উদাহরণ জানিয়ে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমেও।

ইসমাইলের ছাগল নাটক ভাইরাল হলে,প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে বেশিরভাগ কমেন্ট পড়তে থাকে সরকার,প্রধানমন্ত্রী এবং ছাগল উপহার দিতে আকাঙ্খা প্রকাশকারী পরিবারকে কটাক্ষ করে। আলোচনায় আসতে থাকে মূল ঘটনা। দায়িত্ব এড়িয়ে না যেতে,সেই আলোচনাতেও নজর রাখতে হয় সাংবাদিকদের। এটি দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসাকে আড়াল করার অপচেষ্টা বলে খবর আসে সংবাদকর্মীদের কাছে। গত_২৬_জানুয়ারী __ দৌলতপুরের হোসেনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস,জঙ্গী, মাদক বিরোধী সমাবেশে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার ঘোষনা দেন, আমি যদি এই জেলা থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি তাহলে চুড়ি পরে চলে যাবো জেলা থেকে। তার কিছু দিন পরেই হঠাৎ মহিষকুন্ডী গ্রামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি তে দেখা যায় ছাগল কাহিনি।

ইসমাইল ও তার মা ১০০ কেজি ওজনের ছাগল উপহার দিবে প্রধানমন্ত্রীকে! এ বিষয়ে সরেজমিনে দেখতে গেলে দেখা যায়, ছাগল উপহারের উদ্যোক্তা ইসমাইল ঐ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, তার মা তার সাথেই একই বাড়িতে থাকেন। এ বিষয়ে প্রাগপুর ইউ পি সদস্য আলাম উদ্দিন জানান,ইসমাইল আগে মাদক ব্যবসা করতো, তার নামে মামলাও আছে। তবে ছাগল তো সে দিচ্ছেনা তার মা দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত ঈদুল আজহার আগে ছাগলটি বিক্রির জন্য ব্যাপারী কে দেখিয়েছিলেন ঐ পরিবার, ৬১ হাজার টাকা দাম উঠলে অসন্তোষ জানিয়ে ছাগলটি তখন বিক্রি করেনি ইসমাইল। যদিও ভাইরাল হওয়া খবরে বলা হয় ছাগলটি বাচ্চা থেকেই লালনপালন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার কথা ইদানিং হঠাৎ শোনা যাচ্ছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার অনেকেই। এলাকাবাসী বলেন, ইসমাইল ফেন্সিডিলসহ আটক হয়েছিল, তার নামে দৌলতপুর থানায় মামলা আছে। সে এখনও বিভিন্ন কৌশলে মাদক ব্যবসা করে আসছে। চা ব্যবসার আড়ালে সে মাদকের ব্যবসা করে, তার দোকানে প্রতিদিন বিভিন্ন দূরদূরান্তের জেলা থেকে মটর সাইকেলে মাদক সেবিরা আসে। আপনার চায়ের দোকানে, যশোর,পাবনা, কুষ্টিয়া,ভেড়ামারা থেকে চা খেতে বড় বড় মটরসাইকেলে লোক জন আসেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল জানান, “আসে আমার চা টা একটু ভাল হয় তাই বিভিন্ন জেলা বা থানা থেকে লোক আসে। তাতে এলাকার নেতাদের রাগ আমি চা বিক্রয় করে বড় লোক হয়ে যাচ্ছি।” এ বিষয়ে প্রাগপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মুকুল জানান, ছাগল তো ইসমাইল দিবেনা তার মা দিবে, এক সংসারে থাকলেও ছাগলের মালিক তার মা। তবে ইসমাইল মাদক ব্যবসায়ী কিনা এবং তার নামে মাদকের মামলা আছে কিনা আমার জানা নাই।

ইসমাইল পরিবারের ছাগল টি প্রধানমন্ত্রী কে উপহার দেয়ার আকাঙ্খা আশপাশের প্রতিবেশীরও আজকাল শুনছে, আগে এরকম গল্প শোনেনি বলে জানা গেছে। তবে খবর প্রকাশের শুরুতে ইসমাইল নিজেই বিভিন্ন সাংবাদিকদের সংবাদ তৈরিতে অনুরোধ জানান, এবং ছাগলটি তার বাড়িতে জন্ম হয়েছে। ১০০ কেজি ওজন এবং বাচ্চা থেকেই তার মা সেটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য লালনপালন করছেন বলে তথ্য দেন। যেসব তথ্যের অধিকাংশই মিথ্যা। ইসমাইলের মা বলেন, আমি আগেই জানতাম ছাগল নিয়ে এরকম করলে তুই (ইসমাইল) বাড়িতে থাকতে পারবিনা।

আলোচিত ইসমাইলের বংশে অধিকাংশই কট্টর বিএনপি। ইসমাইল পরিবারকেও আগে কখনো আওয়ামীলীগ কিংবা শেখ হাসিনার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। এখন পুরোটাই আত্ম ভয়ের নাটক বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কে জড়িয়ে এধরণের কাজ নিন্দনীয় এবং এলাকার ভাবমূর্তিও দেশের কাছে নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন তারা।