বন্যার্তদের পাশে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

জাককানইবি প্রতিনিধিঃ
বন্যা কবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ নানা সংগঠন। গত সোম ও মঙ্গলবার দুইদিনব্যাপী বন্যাদুর্গতের সাহায্যার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফরম্যান্স আর্ট ‘বানভাসি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো, সে সময় দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বন্যার্তদের জন্য সাহায্য উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফরম্যান্স আর্ট ‘বানভাসি’ এর আরও তিনটি টিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করার জন্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এই অর্থ গুলো দিয়েই তাঁরা বিভিন্ন জেলার বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার মধ্যবর্তী চরে তিন জেলার বন্যার্তদের দুই শতাধিক পরিবারকে পাঁচশত টাকা করে বিতরণ করেছেন এবং তাদের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পারফরম্যান্স আর্ট ‘বানভাসি’ অনুষ্ঠানের নির্দেশক শিক্ষক মেহেদী তানজির।

বন্যার্তদের নগদ অর্থ প্রদান করার সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু-নীল দলের সভাপতি ড. সিদ্ধার্থ দে, সহকারী প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহা, প্রভাষক মেহেদী তানজির, প্রভাষক কাজি মাহমুদুল হাসান সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে জামালপুরের ইসলামপুরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় বন্যার্তদের মাঝে চার শতাধিক পরিবারকে শুকনোচিড়া, গুড়, কলা, স্যালাইন, বিস্কুট, মোমবাতি, মেস, পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ফিটকিরি ও পানিবাহিত রোগের ঔষধ সহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। বন্যার্তদের সাহায্য করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদীচী শিল্পী সংসদ গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজন করেছিলেন বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী’র। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা বন্যার্তদের সাহায্য করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণসামগ্রীর টাকা সংগ্রহের কাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্যের বক্স হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত অর্থ সংগ্রহের কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ কাজে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ছাত্র কল্যাণ সংগঠন সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী জানান, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আসলে এত বেশি মানুষ বন্যার কারণে দুর্ভোগের মধ্যে আছে যে, তাদের অনেক বড় সহায়তা প্রয়োজন। তাই চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও এ বিষয়ে সংযুক্ত করতে। যাতে অনেক মানুষকে সহায়তা করা সম্ভব হয়।’

উল্লেখ্য, ভিন্নমাত্রার পারফরম্যান্স আর্ট ‘বানভাসি’র মাধ্যমে তাঁরা মানুষের ভেতরের মানবতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সংগঠনগুলোকে সংযুক্ত করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য এই প্রয়াস। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পুকুরকে বন্যার্ত অঞ্চলের একটুকরো হিসেবে উপস্থাপন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩টি স্থানকে সংযুক্ত করে চলে এই পারফরম্যান্স। গান, নাচ, যন্ত্রবাদন, কবিতার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন ছিলো।