বিপাকে ত্রিশালের অর্ধশতাধিক হ্যাচারী মালিক

এইচ. এম জোবায়ের হোসাইন :
প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন ও বিধি নিষেধে বিপাকে পরেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অর্ধশতাধিক বেসরকারী মৎস্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাচারী ও নার্সারীগুলো। এতে করে মালিকদের প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে গচ্ছা। হ্যাচারীর মালিকরা আগেরমত রেণু-পোনা সরবরাহ করতে না পেরে অনেক হ্যাচারী মালিক উৎপাদিত রেণু ও পোনা মাছগুলো অবমুক্ত করে দিচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদে। প্রতিমাসে বিদ্যুত বিল, কর্মচারী বেতনসহ অন্যান্য খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হ্যাচারী মালিকদের।
জানাযায়, ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা গ্রামেই রয়েছে প্রায় অর্ধশত মৎস্য হ্যাচারী এন্ড নার্সারী। তবে উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে উপজেলায় অর্ধশতাধিক মৎস্য হ্যাচারী এন্ড নার্সারী রয়েছে। মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই উৎপাদন একেবারেই কম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রেণু-পোণা ক্রয়কারীরা লকডাউনের ফলে গাড়ী নিয়ে যাতায়ত করতে না পারায় তা সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও মৎস ও রেণু-পোনা উৎপাদনে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, খাদ্যের ভেজালকেও দায়ী করেন হ্যচারী মালিকরা। প্রতি বছর এ সময়ে যে পরিমাণ উৎপাদন করা হয়ে থাকে সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রিও করতে হচ্ছে এখন কম মূল্যে। ফলে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে হ্যাচারী মালিকরা।
অনেক হ্যাচারী মালিক রেণু উৎপাদন করে বিক্রি করতে না পেরে তা অবমুক্ত করে দিচ্ছে ধলা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে।
এমনই একজনের সাথে সরেজমিনে কথা হয়। তিনি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা রূপা মৎস্য হ্যাচারী এন্ড নার্সরীর মালিক আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, মহামারি করোনার প্রদুর্ভাব ও লকডাউনের ফলে এক বছরের অধিক সময় ধরে হ্যাচারীর খুব করুন অবস্থা। লাভবান হওয়াতো দুরের কথা বিদ্যুত বিল ও কর্মচারী পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে লোকশান। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় হয়তোবা হ্যাচারী ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিমাসে বিদ্যুত বিল ও কর্মচারী বেতন বাবদ লোকশান গুনতে হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। সরকার এত টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করলেও আওতায় পড়েনি ত্রিশালের এ হ্যাচারী শিল্প।
শাপলা মৎস্য হ্যচারীর মালিক জসিম উদ্দিন, নিরাপদ মৎস্য হ্যচারীর মালিক বাবুল আহমেদ, মীম হ্যাচারীর মালিক বাসির আহমেদ বিপ্লব ও সবুজ বাংলা মৎস্য হ্যাচারীর মালিক আব্দুল আউয়াল জানান, মন্দা অবস্থায় এখানকার হ্যাচারীর ব্যবসা, কোন হ্যাচারীর মালিক সরকারের প্রণোদনার আওতায় আসেনি, কেউ কোন সুবিধাও পায়নি। অথচ এক বছরের অধিক সময় ধরে মহামারী করোনার কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো দুস্কর হয়ে উঠেছে।
তাঁরা বলেন, সরকার যদি এ হ্যাচারী শিল্পের প্রতি নজর দিয়ে তাদের সহয়তার এগিয়ে আসেন তবে ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারবে। বেঁচে থাকবে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার প্রায় অর্ধশত মৎস্য পোণা ও রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাচারী।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারী গুলোর জন্য সরকারী ভাবে কোন প্রণোদনা আসেনি, এ উপজেলায় অর্ধশতাধিক মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারী রয়েছে।