​ভিপি নুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২৯ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়িতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষে এই মামলা দায়ের করা হয়।

শাহবাগ থানা পুলিশের একটি সূত্র ব্রেকিংনিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানাতে পারেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র ডিএম সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

যাদের নামে মামলা করা হয়েছে- ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেল, পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান ও আবু হানিফ, আমিনুল ইসলাম, তুহিন ফারাবী, মেহেদি হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিস উদ্দিন হলের ছাত্র সালেহ উদ্দিন সিফাত, নাজমুল হাসান, আয়াতুল বেহেশতী, রবিউল হোসেন, আরিফুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আরিপুর রহমান।

হামলায় আহত হয়ে ভিপি নুরুল হোসেন নুর ও তার সঙ্গী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা আহত হয়ে এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভিপি নুর ও তার সঙ্গীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীরা। এছাড়া বাইরে থেকেও ইট-পাটকেল ছুড়ে তারা। হামলাকারীরা ভিপি নুরের কক্ষে ঢুকে বাতি নিভিয়ে রড ও লাঠি দেয় বেধরক মারধর করেন। এতে ভিপি নুরসহ অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হোন। তাদের অনেকের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে তুহিন ফরাবি ও এপিএম সোহেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

ভিপি নুরের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বেই হামলা হয়। প্রথমে সনজিত ও সাদ্দামসহ সবাই মিলে মারধর করে নুরুর কক্ষ থেকে ৫ জনকে বের করে দেন। একপর্যায়ে সনজিত ও সাদ্দাম সেখান থেকে বেরিয়ে আসলে অন্য একটি গ্রুপ (মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ) ডাকসু ভবনে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারাও নুরসহ অন্যদেরকে বেধরক মারধর শুরু করেন।

এ ঘটনায় সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠলে গত সোমবার রাতে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

এদিকে নুর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৩ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রিমান্ড পাওয়া ৩ জন হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্য ও সংগঠনের দফতর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্ত। এরমধ্যে আল মামুন ও তূর্যকে সোমবার এবং মেহেদী হাসানকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামুন, তূর্য ও মেহেদী ছাড়াও মামলার এজাহারভুক্ত অপর ৫ জন হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ঢাবি শাখার সভাপতি এএসএম আল সনেট, এফ রহমান হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসীম উদ্দিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব হাসান নিলয় ও জিয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মাহিম।