৬১ লাখ টাকা ফেরত দেয়া সেই সজিব পেলেন সততার পুরস্কার

এক হাজার, দু’হাজার কিংবা এক, দু’লাখ টাকা নয়। গুনে গুনে ৬১ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু লোভের কাছে হেরে যাননি তিনি। সংসারের অভাব-টানাপোড়েনও তাকে বিপথগামী করেনি। ওই ৬১ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন মালিকের কাছে। সেই সততার পুরস্কার হিসেবে নতুন অটোবাইক পেয়েছেন চাঁদপুরের তরুণ অটোরিকশাচালক সজিব।

বুধবার তাকে এই অটোবাইক উপহার দেন স্থানীয় বিকাশ এজেন্টের মালিক মো. আলমগীর আলম জুয়েল। ওই হারানো ৬১ লাখ টাকা তাদেরই ছিল। সজিবকে নতুন অটোবাইকটি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।

গত রোববার বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে ইউসিবিএলের শাখা থেকে বিকাশ এজেন্টের একজন কর্মী টাকাগুলো তোলেন। এরপর শহরের জোড়পুকুর এলাকায় সজিবের অটোতে ওই টাকাভর্তি ব্যাগ মনের ভুলে ফেলে চলে যান সেই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিকাশের ৬১ লাখ টাকা নিয়ে উধাও অটোচালক। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই চালক সজিব তার ভগ্নিপতি পুরানবাজারের ঘাটশ্রমিক আবুল কাশেমকে জানান, তার কাছে টাকাগুলো আছে। তিনি নিজেই টাকাগুলো ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সহযোগিতা নেয়া হয় বাদল নামের এক ব্যক্তির।

সন্ধ্যায় বাদল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমউদ্দিনকে টেলিফোনে ঘটনার বিবরণ জানান। পরে পুরানবাজারে একটি গ্যারেজে ৬১ লাখ টাকাভর্তি ব্যাগ হস্তান্তর করা হয় সদর থানার ওসিকে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সজিবকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশকে সজিব জানান, মালিক খুঁজে না পাওয়ায় এই টাকা নিজের কাছে রেখেছিলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, মোটা অংকের এই টাকা অটোতে পেয়ে সজিব কী করবেন, এমন দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে তিনি দুটি চক্রের কবলেও পড়েন। কিন্তু অবস্থা বেগতিক হবে মনে করে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে টাকাগুলো তিনি ফিরিয়ে দেয়ার পথ খোঁজেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সজিবের প্রশংসার জোয়ার বয়ে যায়। ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে যায় তার সততা। চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুবুর রহমান তৎক্ষণাৎ সজিবকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও সজিবের সততার জন্য শুভেচ্ছা হিসেবে ফুল ও ফল পাঠানো হয়।