৫৭ বছর বয়সে ইউপি মেম্বার রফিকুল ভর্তি হলেন কলেজে

64

অনলাইন ডেস্ক : কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ৫৭ বছর বয়সে এসে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.৪৬ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এবার সবাইকে চমকে তিনি ভর্তি হলেন কলেজে।

বয়স ৫৭ বছর হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। পরীক্ষার ফলাফলের তাঁর এমন সাফল্যের ঘটনা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছিল। তাঁর সাফল্যে খুশি হয়েছিল পরিবার ও প্রতিবেশিরা।

এবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রী কলেজে বি.এম শাখায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। এর আগে তিনি ছন্নকান্দা ডাঃ আবুল হোসেন এবনে সায়ীদ সরকার কারিগরি স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেন।

রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার)। এবারের ইউপি নির্বাচনে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে। মারুফ স্থানীয় আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিনি কেন এই আলো থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তাছাড়া গত পাঁচ বছর মেম্বার থাকার পর তিনি বুঝতে পারেন জীবনে শিক্ষার প্রয়োজন খুব বেশি। নিজেই যদি শিক্ষিত না হন তাহলে মানুষের সেবা করবো কীভাবে? জনগণকে কী শেখাবো? এ ছাড়াও অফিস-আদালতে শিক্ষা সবসময়ই প্রয়োজন হয়। তাই সাংসারিক জীবনের পাশাপাশি তিনিও লেখাপড়ায় শুরু করেন। পাস এসএসসি, এবার কলেজে ভর্তি হলেন একাদশ শ্রেণিতে।

তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার দরুণ অষ্টম শ্রেণি পাশের পর আর পড়াশোনা হয়ে উঠেনি রফিকুল ইসলাম। তবে বয়স ও চক্ষুলজ্জাকে পাত্তা না দিয়ে এবার এসএসসির পর এবার কলেজে ভর্তি হলেন।

রফিকুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হওয়া খুশি স্ত্রী ও ছেলে। তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, আমার বাবা এসএসসি কৃতিত্বের সাথে পাস করার পর ভেবেছিলাম তিনি আর হয়তো আর পড়াশোনা করবেন না। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি কলেজে ভর্তি হয়েছে। এতে আমরা খুবই খুশি হয়েছি।

আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমার খুবই ভালো লাগছে যে এই বয়সেও তিনি এসএসসি পাস করেছেন। এখন পড়াশোনার প্রতি প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি থেকে আজ ভর্তি হলেন একাদশ শ্রেণিতে। তাঁর মনোবলের প্রশংসা করতেই হয়। ওনি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যান সেজন্য আমিসহ কলেজের সকল শিক্ষকরা উৎসাহ দিয়ে যাবেন। আমরা আশা করি ওনি এইচএসসি শেষ করে স্মাতক ডিগ্রী অর্জন করতে সক্ষম হবেন।