হাড় কাঁপানো শীতে সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত

হাড় কাঁপানো শীতে সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও টানা শৈত্যপ্রবাহ এ শীতের তীব্রতা বাড়িয়েছে।

দিনাজপুর, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, পাবনা, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অসহায় লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তারা গবাদি পশু-পাখি নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। গরম কাপড় কিনতে অনেকেই ভিড় করছেন বিভিন্ন দোকানে।

এদিকে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। দিনের অর্ধেক সময়েও সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রচণ্ড শীতে ঘর থেকে বের হতে না পারায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া গরীব আর ছিন্নমূল মানুষ।

খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে, হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকরা জানান, শীতের কারণে জ্বর-সর্দি, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বেড়েছে শীতজনিত রোগ।

দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চুয়াডাঙ্গার আকাশ শনিবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে। এর ফলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে না। সকাল ১০টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইতে দেখা গেছে।

শনিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দুই দিনের চেয়ে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এ কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

সারাদেশে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এ ধারা চুয়াডাঙ্গাতের অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতে কষ্টে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শ্রমিক শ্রেণির মানুষেরা কাজে যেতে পারছেন না। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন নিম্ন আয়ের মানুষ।

আবহাওয়া অফিসের মতে, ভৌগলিক কারণে চুয়াডাঙ্গাতে বরাবরই শীতের সময় বেশি শীত এবং গরমের সময় বেশি গরম অনুভূত হয়। তবে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। চলতি বছর ইতিমধ্যেই পরপর দুদিন (১৯ ও ২০ ডিসেম্বর) চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, আগামী ২৫ তারিখ রাত থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে শীতকালীন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেসময় শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।