হালুয়াঘাটে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার

18

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এতে গত ২৭ অক্টোবর চেয়ারম্যান,সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দেওয়া হয়েছে প্রতীক বরাদ্ধ।

প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়নে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। মাঠে নেমে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থীরা, দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। গ্রামের বাজার ও মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে নিজ নিজ সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণা।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১ নভেম্বর ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১০ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫২ জনকে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ১০জন,ওয়াকার্স পার্টি ১ জন, জাকের পার্টি ১ জন , ইসলামী আন্দোলন ৩ জন, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪২ জন। এছাড়াও সংরক্ষিত (নারী) সদস্য পদে ১২৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫০ জনকে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সমর্থকরা নিজ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ কেউ মোটরসাইকেল শোডাউন এ ব্যাস্ত। আবার কেউ কেউ সমর্থকদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌছে ভোট চাচ্ছেন। চারদিকে চলছে নির্বাচনী আমেজ।

খাওয়ানো হচ্ছে পান সুপারী আর চা। এছাড়ও ক্লাব গুলিতে বাজানো হচ্ছে নিজ নিজ সমর্থকদের নির্বাচনী গান। সব মিলেয় পরিণত হয়ে উঠেছে উৎসবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুর থেকে বিলডোরা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পুরো ইউনিয়ন জোরে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন।

জুগলী ইউনিয়নে দেখা যায়, স্থানীয় এক সাধারণ সদস্য প্রার্থী সাইদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কাজ করছেন। প্রার্থীরা জানান এবছর শুরু থেকে জমজমাট হচ্ছে নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর ভোটারদের মনে ফিরে আসছে উৎসবের আমেজ। নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামের বাজার গুলি এখন সরব।
স্খানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে এরকম আমেজ ছিলো না। এবছর ইউপি নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দী থাকায় জমে উঠছে নির্বাচন। যতই দিনি যাচ্ছে ততই জমজমাট হচ্ছে নির্বাচন প্রচারনা। বর্তমানে প্রতিযোগতিামূলক প্রচরণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা।

না প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক শিক্ষক বলেন, এবছর প্রতিটি ইউনিয়নে শুরু থেকে নির্বাচন জমে উঠছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা করছে প্রতিযোগিতামূলকভাবে।

জানতে চাইলে তিনি জানান, একজন প্রার্থী যদি ১০০ মোটর সাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রায় বের হয় তার প্রতিপক্ষ তার চেয়ে বেশি নিয়ে বের হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিলডোরা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্মী জানান, বিগত বছর গুলির চেয়ে এবছর আমাদের ইউনিয়নে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এবছর ইউনিয়নে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্তিতা করছে।

ধুরাইল ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সমর্থীত এক ভোটার বলেন, এই বার আমগো ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থী। গত বছর ছিলো দুইজন। এবছর দলের জন্য আমরা অাপ্রাণ চেষ্ঠা করছি, জয় করানোর জন্য। প্রচারণায় আমাদের কোন কমতি নেই।

জানতে চাইলে বিলডোরা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ,বি,এম কাজল সরকার বলেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় আছে। আমি এর আগে দুইটি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিলাম কিছু ভোটে পরাজয় বরন করেছি, ইন্শাআল্লাহ আমি এবার বিজয়ের আশাবাদী, তিনি আরো বলেন, একজন প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার পক্ষে জনসর্থন রয়েছে। সকলের কাছে দোয়া চাই।

রির্টানিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জন কেনেথ রিছিল জানান, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে এবছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সর্বমোট ৫২৮ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে কোন ধরণের সহিংসতা না হয় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ঠ থাকবে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।