সড়ক যেন ধান মাড়াইয়ের খলা

30

তারাকান্দা উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়ক দখল করে খড়, ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক যেন ধান মাড়াইয়ের উঠান। তারাকান্দা-চাড়িয়া বাজার সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান জজ মিয়া। তিনি বলেন, সড়কজুড়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকেরা। সড়কের ওপর ধান মাড়াইয়ের কাজ করায় তাঁরা যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালাতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধান স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাশেই শ্যালোচালিত ইঞ্জিন দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে এসব ধান। মাড়াই শেষে ধান বাড়ি নিয়ে গেলেও খড় সড়কের ওপরই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আবার সড়কের পাশে শুকানো হচ্ছে এসব খড়। অনেকে শুকানোর পর সড়কের পাশেই খড় স্তূপ করে রেখেছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এছাড়া তারাকান্দা-শ্যামগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কেও বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর চিত্র দেখা গেছে।

চাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ মৌসুমে খড় বিছানো সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল নিয়ে খড়ে পিছলে পড়ে আহত হন। পরে তিনি একটি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। উপজেলার মানিকদীর গ্রামের আশেক বিল্লাল বলেন, ধান মাড়াই শেষে কৃষকেরা ধানের অবশিষ্টাংশ সড়কে ফেলে রাখেন। শুকানোর জন্য সড়কজুড়ে খড় বিছিয়ে রাখেন কৃষকেরা। বৃষ্টি হলে ওই খড় সড়কে কর্দমাক্ত হওয়ার পরে সেগুলো সরানো হয় না।

পরে পচে রাস্তা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে প্রায়ই দেখা যায়। তোফাজ্জল হোসেন নামের এক বাসচালক বলেন, সড়কের দুই পাশে খড়, ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কারণে রাস্তা সরু হয়ে যায়। এতে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, সড়কে ধান মাড়াই করতে অনেক কৃষককে দেখেছি। যদিও এটা ঠিক না, কিন্তু অনেক কৃষক হয়তো উপায় না পেয়েই এমন কাজ করেছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, সড়ক দখলে নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা বেআইনি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এসব বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।