সড়ক নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত হচ্ছে। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন আইন করা হবে।’

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক পূর্বক ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কমিটির আহ্বায়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনটি প্রয়োগে যে সব অসুবিধাগুলো ছিল সেগুলো ঠিক করে আজ আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে। তারা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে সংশোধন হতে পারে। সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদে আবার আইনটি পাস হবে।’

কী কী সংশোধনী হবে এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা কী দেব, কী দেব না সেটা মুখ্য বিষয় নয়। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত মূল কমিটিতে পাঠাব। মূল কমিটি কীভাবে উত্থাপন করবে সেটা তারা চিন্তা-ভাবনা করে করবেন। অবশ্যই আমরা মনে করি, এগুলো দ্রুত পাস হবে।’

শ্রমিক নেতাদের দাবি ছিল, আইনে সাজার মেয়াদ কমানো এবং অপরাধ জামিনযোগ্য হিসেবে গণ্য করা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাজা কমানোর নয়, তাদের অনেকগুলো দাবি ছিল। সবগুলো বিশ্লেষণ করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাচ্ছি। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশে এই আইনে কী সাজা আছে, সেগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো পর্যালোচনা করেই আজকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, ‘আইনটি যখন তৈরি করেছি শ্রমিক নেতাদের কিছু দাবি দাওয়া ছিল। সেই দাবি দাওয়াগুলো সম্পূর্ণভাবে এখানে উপস্থিত হয়নি। সংসদে পাস হওয়া আইনটির প্রায়োগিক দিক থেকে কোন কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছিল সেগুলো দেখা হচ্ছে। কেন অসুবিধা হচ্ছে সেগুলো দেখার জন্য আমরা বসেছি। হ্যাঁ, এটা হতে পারে। যদি আমাদের সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল মনে করে আইনটি সংশোধন হতে পারে। অসুবিধা সুবিধা সবই জানতে পারবেন, আমরা অথরিটি নই আমরা এ বিষয়ে বলতে পারি না, আমরা শুধু সুপারিশ করতে পারি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামিনযোগ্য এটা বলাটা ঠিক হবে না। একটা আইন সংসদে পাশ হওয়ার পরে যখন এটা প্রয়োগ করা হয়, তখন কিছু সুবিধা অসুবিধার কথা উঠে আসে। আমরা চাই আইনটা সার্বজনীন ক্ষেত্রে প্রয়োগে যাতে অসুবিধা না হয়, আমরা এই আইনের মাধ্যমে যে সকল সমস্যাগুলো দূর করার চেষ্টা করছিলাম, সেটা যাতে আরও ভালোভাবে হয় সেজন্যই কিন্তু নিরাপত্তা কাউন্সিল আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিল।’

‘আমরা সবগুলো দিক বিবেচনা করে একটা সুপারিশ করেছি, সেটা যদি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল গ্রহণ করে তাহলে এই আইনের যে পরিবর্তনগুলো করতে হবে সেটা একটা প্রক্রিয়ায় সংসদে গিয়ে পাস হবে। সংসদে ফিরে যাবে বলেই একটা শক্তির কারণে ওটা করতে পারছি না এ কথা বলাটা ঠিক হবে না। সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটা আইন করতে চাই। আইনের উদ্দেশ্য যেটা ছিল সেটাই যেন এই আইনের মাধ্যমে সাধন করতে পারি সেটাই আমাদের চেষ্টা।’