সু চির বিরুদ্ধে ৬ লাখ ডলার ও স্বর্ণ ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

মিয়ানমারে উৎখাত হওয়া নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে ৬ লাখ ডলার ও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে দেশটির জান্তা। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অভিযোগ আনা হলেও কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঝাউ মিন তুন দেশটির উৎখাত হওয়া প্রেসিডেন্ট উইন মুইন্ট ও আগের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।

সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ক্ষমতা দখল করে।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সেনাবাহিনীর এই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি।
গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে সু চিকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে। তারা বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানো, অবৈধ রেডিও সরঞ্জাম ও করোনা বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে সামরিক সরকার।
বৃহস্পতিবার অবৈধ অর্থ গ্রহণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সবচেয়ে গুরুতর। সেনাবাহিনীর অভিযোগ অনুসারে, সু চি যে স্বর্ণ গ্রহণ করেছেন সেগুলোর আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৪ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড।
ক্ষমতা দখল ও সু চিকে বন্দি করার পর থেকেই মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বন্দি নেতার ছবি নিয়ে মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন জান্তাবিরোধীরা। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে দেশটিতে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মাথায় গুলি করা হয়েছে।
জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে বেসামরিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।