সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত দুই বাংলাদেশি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন

সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা দুই বাংলাদেশি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। শনিবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা তার বক্তব্যে বলেন, বাকি যারা আক্রান্ত আছেন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তারাও খুব শ্রীগ্রই ছাড়পত্র পাবেন।

একই সভায় ডা. ফ্লোরা জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনসহ এ পর্যন্ত মোট ৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারো মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

আক্রান্ত অনেক দেশে বাংলাদেশিদের যাতায়াত থাকলেও আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে অত্যাবশ্যক না হলে সেসব দেশ ভ্রমণে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘আক্রান্ত দেশ থেকে কোনো প্রকল্পের জন্য যদি আসার থাকে, সেটাও আমরা নিরুৎসাহিত করছি। সভা-সমাবেশ বা মিটিংয়ে যদি আক্রান্ত দেশ থেকে কোনো প্রতিনিধি আসার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই সভা-সেমিনারগুলো স্থগিত করে পরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলছি আমরা।’

এখন চীনের বাইরে অন্যান্য দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আরো বেশি সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান ডা. ফ্লোরা।

প্রসঙ্গত, করোনায় চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৫৮ জন। ভাইরাসটি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার চীনের মধ্যপ্রদেশ হুবেইয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানে মারাত্মক অবনতি হয়েছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির। কোভিড নাইন্টিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১০ জনে। চীনের বাইরে এটিই এ ভাইরাসে সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯৪ জন। এই নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৩ জনে।

গত বছরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। এতে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল উহানে যেমন নতুন রোগী বাড়ছে, তেমনি নতুন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ নতুন রোগীর দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার কুয়েত, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরাইন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান।