সাহাবউদ্দিন মেডিক্যালের এমডিসহ ৩ জন রিমান্ডে

চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও অনিয়মের মামলায় ঢাকার সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাত ও স্টোর কিপার শাহরিজ কবিরকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

তাদের তিনজনের জামিন আবেদন নাকচ করে ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

গত দুদিনে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ফয়সাল, হাসনাত ও শাহরিজকে এদিন আদালতে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয় গুলশান থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, আসামিদের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে তিনজনকেই পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে রোববার সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। তখনই হাসনাত ও শাহরিজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহাবউদ্দিনের ছেলে ফয়সাল এবং হাসনাত ও শাহরিজকে আসামি করে সোমবার রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন র‌্যাবের নায়েব সুবেদার ফজলুল বারী।

রাতেই বনানীর ‘সুইট ড্রীম’ হোটেল থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার বাবা সাহাবউদ্দিনই ওই হোটেলের মালিক।

সরকারের অনুমোদন না থাকার পরও র‌্যাপিড কিট দিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা, পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া প্রতিবেদন দেয়া, সুস্থ রোগীকে ‘করোনাভাইরাস পজিটিভ’ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা, মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিক্যাল সরঞ্জাম রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে গুলশান থানার এ মামলায়।

হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর আগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তা নবায়ন করা হয়নি বলেও র‌্যাবের অভিযোগ।

বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিনের ছেলে ফয়সলের নির্দেশে ডা. আবুল হাসনাত অন্যদের সহযোগিতায় এসব অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, অভিযানের খবর পেয়ে এনামুল হক নামে এক রোগীর ছেলে হাসপাতালে এসে জানান, কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিলেও কোনো প্রতিবেদন না দিয়ে মৌখিকভাবে ‘নেগেটিভ’ বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

“এছাড়া অন্য এক রোগীর কভিড-১৯ পরীক্ষা ঢাকার বাইরে একটি হাসপাতাল থেকে করিয়ে পজিটিভ দেখিয়ে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই রোগীর স্বজনের সন্দেহ হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ফল নেগেটিভ আসে।”

মামলায় বলা হয়, হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অস্ত্রোপাচার কক্ষে মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন ধরনের মেডিক্যাল সামগ্রী পাওয়া যায়। এরমধ্যে ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে, এমনও মেডিক্যাল সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।

ডা. আবুল হাসনাতের কক্ষ তল্লাশি করে নয়টি র‌্যাপিড টেস্ট কিট এবং তার স্বাক্ষরে চারজনের অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার কথাও জানানো হয় মামলার এজাহারে।