সামাজিক কর্মকান্ডে খালিয়াজুরী তে প্রবীণরাও পিছিয়ে নেই

5
সামাজিক কর্মকান্ডে

মোঃ আবুল হোসেন খালিয়াজুরী : সামাজিক কর্মকান্ডে খালিয়াজুরী তে প্রবীণরাও পিছিয়ে নেই। প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও দেশের সম্পদ। আর তাই করে দেখিয়ে দিয়েছেন নেত্রকোণা জেলার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরী উপজেলার প্রবীণরা।

প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন, সমাজে প্রবীণদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিবছর পহেলা অক্টোবর নতুন নতুন থিম নিয়ে ফিরে আসে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস।

এ বছরেও ঠিক একটু ব্যতিক্রমভাবে খালিয়াজুরীতে পালিত হয়েছে উক্ত দিবসটি। যে বয়সে প্রবীণরা অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত, দুঃখ-কষ্ট, বৈষম্য ও বিড়ম্বনার শিকার, যেখানে প্রবীণরা মসজিদে, মন্দিরে প্রার্থনা ও বিছানায় শুয়ে সময় কাটানোর কথা। সেই বয়সে এক সঙ্গে ৬০ প্রবীণ মিলে বৃদ্ধ বন্ধু সমিতি নামে এক সংগঠন তৈরি করে নিজেরাই পালন করেছে প্রবীণ দিবস।

সামাজিক কর্মকান্ডে শুধু তাই নয়, প্রতিবছরই বৃদ্ধ বন্ধু সংগঠন এর পক্ষ থেকে নৌকা নিয়ে হাওর ভ্রমণ করে এই দুঃসাহসিক প্রবীণ যোদ্ধারা।

সমাজে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রবীণ রয়েছেন যারা তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের ও দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান; বৃদ্ধ বন্ধু সংগঠন তারেই একটি উদাহারণ। সংগঠনটির একটি নিজস্ব ফান্ড রয়েছে। আর সেই ফান্ড থেকেই প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে, সমাজের অবহেলিত বঞ্চিত বৃদ্ধদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, কোনো বৃদ্ধ অসুস্থ হলে সংগঠন থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করার চেষ্টা করেন , নিজেদের সংগঠনের সদস্যদের কোনো ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা খরচ চালাতে না পারলে সংগঠনের সাদ্ধমতো কিছুটা খরচ বহন করেন ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারও বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়লে সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়ায়।

তবে তাদের সমস্যা একটাই স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো কার্যালয় নেই, যার কারণে সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যা বর্তমান সময়ে সংগঠনের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে উক্ত সংগঠনের প্রাণের দাবি যাতে খালিয়াজুরীর প্রবীণদেরকে একটি কার্যালয় করে দেওয়া হয়। কার্যালয় থাকলে হয়তবা আজ খোলা মাঠে পালন করতে হতো না তাদের আজকের এই দিবস।

প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন, সমাজে প্রবীণদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিবছর পহেলা অক্টোবর নতুন নতুন থিম নিয়ে ফিরে আসে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস।

এছাড়া কোনো চায়ের দোকানে বসলেও তাদেরকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

এভাবেই হয়তবা প্রবীণরা জীবনের সবটুকু সময়, শ্রম , মেধা দিয়ে এ দেশ, এ সমাজ ও পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সর্বশেষে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারাই কি অবহেলিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত হবেন?