শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়লো

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি বাড়িয়ে ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
আজ বুধবার (২৬ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় ব্যাপক মানুষের চলাফেরা হয়েছে। ফলে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কোনো কোনো জেলায় বেশি। এসব মাথায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি জুনের ১২ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
তিনি বলেন, করেনার মধ্যে স্কুলে ভর্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে সব শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা সম্ভব নয়। অ্যাসাইনমেন্টের মতো নতুন বিষয় আমরা যুক্ত করেছি। অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সংশয় থাকলেও সবাই এটা ভালোভাবে নিয়েছে। ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইমেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। ফলে ঝরে পড়ার আশংকা অনেকটা দূর হয়েছে। এটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সারাদেশের দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। তারা যাতে বই পড়ে, তারা যেন অ্যাসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ করে…, লকডাউনের মাঝখানে এটা বন্ধ ছিল কিন্তু এখন আবার শুরু হয়েছে।’
টেলিভিশনের ক্লাসের পাশাপাশি স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। সারাদেশের পাঁচ হাজার শিক্ষককে অনলাইন ক্লাস করানোর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে- বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
গত ফেব্রুয়ারিতে আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, ৩০ মার্চ থেকে প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২৪ মে থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ছুটি আরও দুই দফায় বাড়িয়ে ২৯ মে পর্যন্ত করা হয়।
ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ গোলাম মো. ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অফিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সাজ্জাদুল হাসান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ।
দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে এ মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত করা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও এপ্রিলে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেয়া গেলেও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয় সরকার।
এর আগে সময় পিছিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা জুনে ও এইচএসসি পরীক্ষা আগস্টে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে জন্য এসএসসির ৬০ দিন ও এইচএসসির ৮৪ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও প্রকাশ করেছিল শিক্ষা বোর্ড। হঠাৎ করে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘোষণার বাস্তবায়নও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।