শরীয়তপুরে আরো ৭জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত , মোট রোগী সংখ্যা ২০

রুপক চক্রবর্তী শরীয়তপুর :
শরীয়তপুর জেলায় আরো সাতজন নভেল করোনা ভাইরাস অথাৎ কোভিট-১৯ এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়ে শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন করে সাতজন আক্রান্ত রোগীর মধ্যে চারজন নড়িয়া উপজেলার। এদের মধ্যে চামটা ইউনিয়নের ২জন, বিঝারী ইউনিয়নের ১জন, নওপাড়া ইউনিয়নের ১জন। জাজিরা উপজেলার ফকির মাহমুদ আকন কান্দির ১জন এবং এই প্রথম ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নের ২জন । নতুন যে সাতজন ব্যক্তির দেহে কোভিট-১৯ পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে তাদের মধ্যে চারজন নারী এবং তিনজন পুরুষ। নিউজ লেখার সময়কালে প্রাপ্ত তথ্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলার যিনি তার বাড়ি সহ আশেপাশের ১০ বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে এবং অন্য ৬ রোগীর বাড়ি সহ আশেপাশের বাড়ি গুলো লকডাউন ঘোষনা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা করোনা কন্ট্রোল রুমের ফোকাল পার্সন ডা. মোঃ আবদুর রশিদ জানান, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য জেলা হতে আইইডিসিআর এ প্রেরনকৃত নমুনার মধ্যে শরীয়তপুরে আরো ৭জন রোগীর দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে চারজন নড়িয়া উপজেলার, ২ জন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নের
এবং ১জন জাজিরা উপজেলার। গত ২৩শে এপ্রিল এদের নমুনা আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়েছিলো। শনিবার দিবাগত রাতে এদের নমুনার রিপোর্ট আসলে এ সাতজনের দেহে করোনা ভাইরাস অথাৎ কোভিট-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বর্তমানে শরীয়তপুর জেলায় কোভিট-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা হলো বিশ (২০) জন।

উল্লেখ যে, শরীয়তপুর জেলায় ইতিপূর্বে ১৩জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হয়েছিলো যার মধ্যে শরীয়তপুর সদরে একই পরিবারের ৩জন, জাজিরা উপজেলার ৩জন এবং ডামুড্যা উপজেলায় ৩ জন এবং নড়িয়া উপজেলায় ৪ জন । এদের মধ্যে ১১ জনই সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত জেলায় ভ্রমন করেছে এবং দুই জন্য পূর্বে সংক্রমিত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য। এছাড়াও নড়িয়া উপজেলার একজন বৃদ্ধ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। তার নমুনা ঢাকাতেই সংগ্রহ করা হয়েছিলো এবং তার তথ্য ঢাকাতে সংরক্ষিত করা হয়েছে। গত ১৫ই এপ্রিল জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে গঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটি সভা হয়। উক্ত সভায় সিন্ধান্ত হয় যে প্রানঘাতী করোনা ভাইরাস
(কোভিট-১৯) এর সংক্রমণ ঝুকি ও বিস্তার প্রতিরোধে শরীয়তপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয় এবং পরবর্তী ঘোষনা না দেয়া পর্যন্ত সম্পুর্ণ জেলা লকডাউন থাকবে বলে জানানো হয়।