শরীয়তপুরে আরো ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

রুপক চক্রবর্তী শরীয়তপুর :
শরীয়তপুর জেলায় আরো তিনজন নভেল করোনা ভাইরাস অথাৎ কোভিট-১৯ এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়ে শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন করে এই তিনজন আক্রান্ত রোগীর মধ্যে একজন হলো নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের অপর দুইজন হলো ডামুড্যা পৌরসভার বিশালকুড়ি এলাকার। রাজনগরের যে ব্যক্তির কোভিট-১৯ পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে তিনি গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ হতে এসেছে অন্যদিকে ডামুড্যার যে দুই রোগী শনাক্ত হয়েছে তারা ইতিপূর্বে ডামুড্যাতে যে রোগীর দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিলো তার সংস্পর্শে এসেছিলো । নতুন শনাক্ত ৩জন রোগীকেই যার যার বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এই তিনসহ জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০জন।

নড়িয়া উপজেলা রাজনগরে যে রোগী শনাক্ত হয়েছে তার বাড়ি সহ আশেপাশের ৩৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে আর ডামুড্যা উপজেলার যে রোগী তার এলাকায় পূর্বে যে রোগী শনাক্ত হয়েছিলো তখনই ৪০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছিলো এবং তা এখনো বলবৎ রয়েছে।
জেলা করোনা কন্ট্রোল রুমের ফোকাল পার্সন ডা. মোঃ আবদুর রশিদ জানান, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য জেলা হতে আইইডিসিআর এ প্রেরনকৃত এপর্যন্ত নমুনার সংখ্যা ১৮৭টি যার মধ্যে ১৬৮ কোভিট-১৯ নেগেটিভ আর ১০টি কোভিট-১৯ পজিটিভ। গত কাল তিনটি রিপোর্ট করোনা ভাইরাস অথাৎ কোভিট-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ডামুড্যা উপজেলার দুইটি স্যাম্পলের ফলাফল কোভিট-১৯ পজিটিভ এবং নড়িয়া উপজেলার একটি স্যাম্পলের ফলাফল কোভিট-১৯ পজিটিভ। এই নমুনা গুলো ১৯ এপ্রিল
সংগ্রহ করা হয়েছিলো। এ নিয়ে বর্তমানে শরীয়তপুর জেলায় কোভিট-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা দশ (১০) জন।

উল্লেখ যে, শরীয়তপুর জেলায় ইতিপূর্বে ৭জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হয়েছিলো যার মধ্যে শরীয়তপুর সদরে একই পরিবারের ৩জন, জাজিরা উপজেলার ৩জন এবং ডামুড্যা উপজেলায় ১ জন। এরা সাত জনই সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত জেলায় ভ্রমন করেছে। এছাড়াও নড়িয়া উপজেলার একজন বৃদ্ধ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। তার নমুনা ঢাকাতেই সংগ্রহ করা হয়েছিলো এবং তার তথ্য ঢাকাতে সংরক্ষিত করা হয়েছে। গত ১৫ই এপ্রিল জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে গঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটি সভা হয়। উক্ত সভায় সিন্ধান্ত হয় যে প্রানঘাতী করোনা ভাইরাস
(কোভিট-১৯) এর সংক্রমণ ঝুকি ও বিস্তার প্রতিরোধে শরীয়তপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয় এবং পরবর্তী ঘোষনা না দেয়া পর্যন্ত সম্পুর্ণ জেলা লকডাউন থাকবে বলে জানানো হয়।