শরীয়তপুরের জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যু, নমুনা পাঠানো হয়েছে আইইডিসিআর এ

রুপক চক্রবর্তী শরীয়তপুর :
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই নারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে । করোনা ভাইরাস নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে মরদেহ নিয়ে পালিয়েছে স্বজনরা- বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মুনির আহমেদ খান।

সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯ টায় জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোসা: নিপা আক্তার (২৫) নামে রোগীকে হাসপাতালের নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। তাকে সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ডে নেয়ার পর তার (স্নায়ু) পালস না পেয়ে সেবিকারা ডাক্তারকে জানায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই রোগী সকাল সাড়ে দশটার দিকে মারা গেছেন। করোনা ভাইরাস আছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হতে কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিষয়টি দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানানো হয়। এরপর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিলে ওই চিকিৎসক জানান মৃতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পালিয়ে গেছে।
জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রণেশ বোসের কাছে জানতে চাওয়া হয় নমুনা সংগ্রহের কথা জানা সত্ত্বেও ওই রোগীর স্বজনরা কিভাবে মৃত্যুর ছাড়পত্র পেয়েছেন? এর সদুত্তোর দিতে পারেননি ওই চিকিৎসক।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মনির আহমেদ বলেন, যেহেতু এখন করোনার প্রাদুর্ভাব রয়েছে এবং শরীয়তপুর একটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা তাই সন্দেহ এড়াতেই ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে কেন এবং কিভাবে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা পালিয়ে গেল বিষয়টি আমাকেও ভাবিয়েছে। ঘটনাটি পালং মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে একই সাথে ঊর্ধ্বতনদেরকে অবহিত করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুর রহমান শেখ বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে আমরা তার বাড়ি যাই। আমরা ওই মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিআর পাঠিয়েছি এবং নমুনার ফলাফল না আসা পর্যন্ত ওই পরিবারসহ আশপাশের বাড়িগুলোকে পুরোপুরি হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।