যে ৩১ জেলায় করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি

দেশে হঠাৎ করেই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির হার বিবেচনায় মৌলভীবাজার জেলা রয়েছে শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে মুন্সীগঞ্জ, তৃতীয় চট্টগ্রাম, চতুর্থ ঢাকা ও পঞ্চম অবস্থায় রয়েছে সিলেট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩১ জেলায় কোভিড-১৯-এর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে। সারা দেশে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষার ভিত্তিতে ও তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

উচ্চ সংক্রমণ জেলাগুলো হলো—১. মৌলভীবাজার, ২. মুন্সীগঞ্জ, ৩. চট্টগ্রাম, ৪. ঢাকা, ৫. সিলেট, ৬. নরসিংদী, ৭. খুলনা, ৮. নারায়ণগঞ্জ, ৯. রাজবাড়ী, ১০. ফেনী, ১১. নোয়াখালী, ১২. চাঁদপুর, ১৩. শরীয়তপুর, ১৪. লক্ষ্মীপুর, ১৫. কুমিল্লা, ১৬. বরিশাল, ১৭. রাজশাহী, ১৮. বগুড়া, ১৯, নড়াইল, ২০. নীলফামারী, ২১. গাজীপুর, ২২. ফরিদপুর, ২৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৪. যশোর, ২৫. মাদারীপুর, ২৬. নওগাঁ, ২৭. রংপুর, ২৮. কিশোরগঞ্জ, ২৯. নাটোর, ৩০. টাঙ্গাইল ও ৩১. কক্সবাজার।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৫৮ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ২৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সুস্থতার হারও বেড়েছে। বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২১৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো।

গত ১৯ মার্চ করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১০.০৪ শতাংশের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেদিন করোনারোধে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, আমাদের ধারণা, করোনার সংক্রমণ ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। তার আগেই এটা কমতে শুরু করবে। কিন্তু সেই ধারণাও ফলেনি। ৩১ মার্চ করোনা আক্রান্তের হার ১৯.৯০ শতাংশ। অথচ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২.৫১ শতাংশ।

বুধবারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৯৩১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৬ হাজার ৬৭১টি। প্রতি ১০০ নমুনায় করোনা শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এ পরিস্থিতিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

যেসব এলাকা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব জায়গায় আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত করা, প্রয়োজনে বন্ধ রাখার কথা বলা হযেছে নতুন নির্দেশনায়। বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করার পাশাপাশি মেলা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এতদিন বন্ধই ছিল, তার সঙ্গে মাদ্রাসাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গণপরিবহন এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানুষের সংখ্যা আসন সংখ্যার অর্ধেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর ইউরোপ ফেরতদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ও অন্যদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।