ময়মনসিংহে হামলার শিকার হেলাল উদ্দিনসহ একাধিক নারী, নিরাপত্তাহীনতায় স্বপরিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ৪ মার্চ :
প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে গ্রামশুদ্ধ আতংকাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে । বাধা দিলে একাধিক নারীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নং ভাবখালি ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে। গত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জেরে মেম্বার ইয়াকুব আলীর রোষানলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হেলাল উদ্দিনের অসহায় পরিবার।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নং ভাবখালি নেহালিকান্দা গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। উপরন্তু হামলাকারীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, বিগত ইউপি নির্বাচনে ভাবখালি ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে ইয়াকুব আলীর বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হেলাল উদ্দিন। এতে বর্তামান মেম্বার ইয়াকুব আলীর অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। উক্ত টাকা আদায়ে হেলাল উদ্দিনের কাছে চাদা দাবি করে মেম্বার। এরই জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হেলাল উদ্দিন ও তার ভাইয়ের ছেলেকে মারধর করে ইয়াকুব মেম্বারের দুই ছেলে বাবু ও রাজু।

বিষয়টি নিয়ে হেলাল উদ্দিন গ্রাম্য শালিসে অভিযোগ তুললে ১ মার্চ ঘটনা নিয়ে শালিস দরবার বসে। দরবারে মেম্বার ইয়াকুব আলী ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে আক্রমনাত্বক ও হুমকিমূলক কথাবার্তা বলে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরই ইয়াকুব আলী তার তিন ছেলে বাবু(২৬), রাজু (২২), নাকিব (২৫), ভাই আঃ হাকিম(৫২) সংঙ্গিয় জহিরুল (২৪), সুজাত(২৮), শাহ আলী(৪০), এরশাদ(৩৫), ইসলাম (৪৫), আকরাম(৪০), সামাদ(৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হেলাল উদ্দিনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। রামদা, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হেলাল উদ্দিন পরিবারের তিনি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

এসময় বাড়িতে অবস্থান করা মহিলাদের পিটিয়ে আহত করে লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘরের আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, মটরসাইকেল কুপিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে জানা যায়। এ ঘটনায় ৩ মার্চ হামলার শিকার হেলাল উদ্দিনের ভাইয়ে স্ত্রী আহত মোছাঃ রাশিদা বেগম কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

হামলার শিকার হেলাল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত ইয়াকুব মেম্বার আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে উল্টো আমিসহ আমার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির শিকার করছে। মেম্বারের পেটুয়া বাহিনীর অনবরত হুমকির মুখে আমিসহ আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। তার ক্ষমতার দাপটে গ্রামের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা।

এবিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কেউ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিশৃঙ্খলা করলে আইনের আওতায় আনা হবে।