ময়মনসিংহে সহকারী শিক্ষককে পিটালেন প্রধান শিক্ষক!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ি চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজকে বেধরক পিটালেন একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকায় নানা সমালোচনা ঝঁড় উঠেছে। ব্যাহত হচ্ছে কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে এ ঘটনার পর থেকে ভয়ে ওই সহকারী শিক্ষক বাড়ি ছাড়া বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত (২৩ নভেম্বর) শনিবার স্কুলে যাওয়ার পথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কোনাবাড়ি চরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজকে পিটিয়ে আহত করে একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন। আব্দুল আজিজকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয় তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন। আহত আব্দুল আজিজকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তার ছেলেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন আহত সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দু’মাস আগে কোনাবাড়ি চরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মেয়ের জামাতার কাছ থেকে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমির টাকা পরিশোধ করার পরেও ক্রয়কৃত জমির দখল ছাড়ছিলনা রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন। এ নিয়ে গ্রাম সালিশ বৈঠকও হয়েছে। এরই জেরে রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। এ ছাড়াও বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান আব্দুল আজিজ।

কোনাবাড়ি চরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আব্দুল আজিজ। নিজ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষককে মারধর করে গাঁ ডাকা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ফলে তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে স্কুলের কার্যক্রম। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের স্কুল ও বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে তার বসত ঘরটি। তবে তার প্রতিবেশীরা জানান, মারধরের ঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষকসহ তার পরিবারের লোকজন ঘরে তালা দিয়ে স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। তাদের দাবি এ ঘটনায় কমবেশি দু’পক্ষের দোষ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে মামলাও হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের পক্ষ থেকে যা করনীয় তাই করব।

ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।