ময়মনসিংহে রাজধানী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ২০ ডিসেম্বর :
ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকার বেসরকারী ‘রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে’ ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনে সুমী আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, সিজার করার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রস্রাবের নালী কেটে ফেলার কারনে সুমীর এই অকাল মৃত্যু হয়েছে। অর্থলোভী হাসপাতাল মালিক ও চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করেছের সুমীর পরিবার ও স্বজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে খবর পেয়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা রাজধানী হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. পরীক্ষিত কুমার পাড় জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তে গাফিলতি কিংবা ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনের প্রমাণ পেলে দায়ী হাসপাতাল মালিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা মহলে দৌড়ঝাপ করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বেসরকারী রাজধানী হাসপাতালে ভর্তি হন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের মেয়ে সুমী আক্তার। একই দিন রাতে সিজারে পুত্র সন্তান জন্ম দেন তিনি। অপারেশনের পর অবস্থার অবনতি ঘটে সুমীর। রাজধানী হাসপাতালে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মরণাপন্ন সুমীকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে মারা যায় সুমী।

রাজধানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, সুমীকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সিজার করেন ময়মনসিংহে বসবাসকারী জামালপুর মেডিকেল হাসপাতালের সার্জন ডা. আফসানা রওশন। সুমীর উচ্চ রক্তচাপ ছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে পরিবারের দাবি প্রসবের ব্যথা ছাড়া সুমীর অন্য কোন জটিলতা ছিল না। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, সিজার করার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফসানা রওশন সুমীর প্রস্রাবের নালি কেটে ফেলে। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করার পর প্রস্রাব না হওয়ায় পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথায় কাতর হলে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে সুমীর।

এ সময় রাজধানী হাসপাতালে ব্যবস্থা না দিয়ে সুমীকে তড়িঘড়ি করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে হেরে যান সুমী। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে সুমীর স্বজনসহ নানা মহলে দৌড়ঝাপ করে মোটা অঙ্কের টাকা ছড়াচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ ঘটনার পর গত বুধবার রাতে হাসপাতাল ফেলে চিকিৎসক ও মালিকরা গা ঢাকা দিলেও বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে দেখা যায় মালিকদের।

হাসপাতাল পরিচালক আরিফ জানান, তাদের কোন গাফিলতি ছিল না। নামকরা সার্জন দিয়েই সুমীর সিজার করানো হয়। সিজারের সময় ভুল করে প্রস্রাবের নালি কেটে ফেলা সম্পর্কে জানান-এটি সার্জন ডা. আফসানা বলতে পারবেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, রাজধানী হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনের শিকার অনেক রোগীকে মরণাপন্ন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সার্জন ডা.আফসানা রওশন, ডা. রোকসানা করিম ও ডা.সুস্মিতাসহ অন্তত অর্ধ ডজন সার্জনে বিরুদ্ধে এরকম ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে।

নগরীর চরপাড়া এলাকায় হোলি হোমস ক্লিনিকে সার্জন রোকসানা করিমের বিরুদ্ধে গোপালপুর গামের গৃহবধু শামসুন্নাহারের জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। টিউমার অপসারণ করার জন্য শামসুন্নাহার ওই ক্লিনিকে গিয়ে ছিলেন। শামসুন্নাহার এখন ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। অফিস চলাকালীন কাজ ফেলে ডা. সুস্মিতা নগরীর নির্ধারিত হাসপাতালে সিজার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।