ময়মনসিংহে যুবদল নেতার চাদাঁবাজির অভিযোগ আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলন

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ১৪ নভেম্বর :
ময়মনসিংহ শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ বাজারে চাঁদাবাজি, গুলি ও ভাংচুরের ঘটনায় “যুবদল নেতা” তোফাজ্জল হোসেন সবুজ ওরফে সবুজ মন্ডলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে তথাকথিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে সচেতন মহল দাবি করেছেন।

সুনির্দিষ্ট চাদাঁবাজির ঘটনাকে আটো টেম্পো ষ্ট্যান্ডের ইজারার সাথে লেজে গোবরে তালগোল পাকিয়ে একটি চক্র অভিযুক্ত সবুজ মন্ডলকে আড়াল করার পায়তারা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে “যুবদল নেতা” সবুজ মন্ডলের মাধ্যমে সুবিধাভোগী স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সমালোচিত নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।

গত ৮ নভেম্বর শম্ভুগঞ্জ মধ্যবাজারে চাদাঁ না পেয়ে সবুজ মন্ডলের নেতৃত্ব গুলি, ভাংচুর ও হুমকির মুখে দোকান বন্ধের অভিযোগ উঠে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ্য করে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে কোতোয়ালী পুলিশ বিষয়টি সিটি করপোরেশনের বিষয় জানিয়ে অভিযোগটি এখনও এফ আই আর নথিভূক্ত করেনি।

এরপর গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) অভিযুক্ত সবুজ মন্ডলের অনুপস্থিতিতে তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের নামে ভিন্ন বিষয় উল্লেখ্যপূর্বক অসত্য তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে ওই সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে জেলার প্রেসক্লাব গুলোর কোন সংগঠনই অবহিত নয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনে “যুবদল নেতা” সবুজ মন্ডলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের একাধিক নেতার নাম উল্লেখ্য করে অভিযোগের তীর ছুড়েন। যারা ইতিপূর্বে সবুজ মন্ডলের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিহত করতে সচেষ্ট ছিলেন।

“যুবদল নেতা” সবুজ মন্ডল বিস্ফোরক, চাদাঁবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১০ টি মামলার এজাহার নামিয় আসামি বলে জানা গেছে। শম্ভুগঞ্জের একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি বর্তমানে সবুজ মন্ডলের পক্ষে সাফাই গাইছেন, তিনি নিজেও সবুজ মন্ডলের নামে চাদাঁবাজির মামালা দায়ের করে ছিলেন বলে সূত্র জানায়।

তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের একাধিক নেতার নামে মিথ্যা উদ্দেশ্যমূলক তথ্য উপস্থাপন করায় এলাকার সাধারণ জনগণ ও শান্তি প্রিয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী জরুরী সভা করেছে বলে সূত্র জানায়। ওই সভায় তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের নামে প্রদত্ত তথ্য যাচাই বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করায় এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

একইসাথে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ ৫ দিনেও এফ আই আর না হওয়ায় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী মহলে পুলিশের প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানা যায়।

আলোচনা রয়েছে, সরকারের শুদ্ধি অভিযানে সরকারী দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন অনেকটাই কোনঠাসা, তখন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে “যুবদল নেতা সবুজ মন্ডলের রাজত্ব চলছে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রভাব বিস্তারে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, সবুজ মন্ডলকে ব্যবহার করে একটি চক্র শম্ভুগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশ ও সাংবাদিকদের নানাভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে নিজস্ব ও গ্রুপিং এর স্বার্থ বাস্তবায়নে।