ময়মনসিংহে ব্রহ্মপূত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ৮ গ্রাম প্লাবিত

পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির চাপ বেশি থাকায় প্রায় ৭০ মিটার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৮টি গ্রামের সহস্রাধিক ঘরবাড়ি। এতে ৩ হাজার ২’শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বুধবার (২৪ জুলাই) সকালের দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি আকস্মিক ভেঙ্গে যায়। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর, চরবিনপাড়া, চর জেলাখানাচর, দূর্গাপুর, কোনাপাড়া, বারেরচর, সিরতা, চরসিরতা গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি, মাছের খামার তলিয়ে গেছে। এতে করে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কারো কারো ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।
খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (এমসিসি) মেয়র ইকরামুল হক টিটু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম গালিভ খাঁন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইনসহ এমসিসি’র কাউন্সিলর স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যানবৃন্দ। জনপ্রতিধিবৃন্দ দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে ২০০১ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নির্মাণ করা হয় ময়মনসিংহ শহর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি। এরপর বড় ধরনের বন্যা হয়নি। তাই ঐ বাঁধ আর সংস্কার করা হয়নি। এরপর আর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ভেঙে গেছে বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার। এতে মাছের খামার, আমন বীজ তলা ও শাক সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম গালিভ খাঁন জানান, এরইমধ্যে বিকেল থেকে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন বাঁধটি সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রনয়নের কাজ শুরু হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ২লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১০৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।