ময়মনসিংহে ডিবি’র সঙ্গে পৃথক বন্ধুকযুদ্ধে ধর্ষকসহ ২ যুবক নিহত, ৪ পুলিশ আহত

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ৫ আগস্ট :
ময়মনসিংহের শহতলীর শম্ভুগঞ্জ ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা এলাকায় পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি’র সঙ্গে কতিথ বন্ধুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী জনি মিয়া (২৬) ও গনধর্ষণ মামলার আসামী ধর্ষক জহিরুল ইসলাম (২০) নামে ২ যুবক নিহত হয়েছে। পুলিশের দবি, নিহত জনি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী ছিলেন। সে নগরী পাটগুদাম এলাকার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আবেদীনের ছেলে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ প্রায় ১১ টিরও অধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আক্রাম হোসেন ও কনেস্টেবল মতিউর রহমানসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশলাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাত পৌনে ১ টার দিকে শহরতলীর শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী ও রাত আড়াই টায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পার্টিরা কালাহদহ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় পৃথক ভাবে এ বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ডিবি পুলিশের একটি টিম সোমবার মধ্যরাতে কোতোয়ালী থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে শহরতলীর শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী অবস্থান করছে। পরে ওই সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিম তাদেরকে আটক করার চেষ্টা করলে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলি ও ডিল মারতে থাকে। এতে পুলিশের সদস্য আহত হয়।

তিনি আরও বলেন, পরে পুলিশ সরকারী সম্পদ ও আত্নরক্ষার্থে শর্টগানের ১৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। এ সময় পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে মোঃ জনি মিয়া (২৬) নামে অন্য এক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী যুবক ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ২০০ শত গ্রাম হেরোইন, ১টি ষ্টিলের চাকু ও শর্টগানের ১৪ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই যুবকের বিরুদ্ধে ৩ টি মাদক মামলাসহ ১১ টিরও অধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ডিবি ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ আরও জানান,
অন্যদিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম (২০) ডিবি পুলিশের সঙ্গে কতিথ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গত ৩ আগস্ট রাত ৮ দিকে উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে তিনজন মিলে জোরপূর্বক গনধর্ষণ করে। এসময় ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে ফেলে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয় ।

তিনি আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত আড়াইটার দিকে গ্রেফতার অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার পার্টিরা কালাদহ ঈদগাহ মাঠের সামনে যায় ডিবি পুলিশ। তখন ধর্ষণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথারী গুলি ছুড়তে থাকে । পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে শটগানের গুলি বের করলে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায় । এ সময় জহিরুল নামে একজন আসামীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষনা করেন। সে উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। এঘটনা আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।