ময়মনসিংহে ছেলেধরা গুজবকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা

ষ্টাফ করেসপন্ডেন, ময়মনসিংহ ২৪ জুলাই :
সম্প্রতি সারা দেশে ছেলেধরা গুজবকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারে চলছে ভয়াবহ আতংক। ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত ৪ টি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলেধরা বলে চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ময়মনসিংহে গুজব ষড়যন্ত্রে একটি চক্র কাজ করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরে এ সংক্রান্তে কথা বলেন জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির।

এ সময় সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার জানান, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উজান ঘাগড়া এলাকায় জৈনক জসিমের ঘরে রাকিব নামের এক সিধকাটা চোর ছুরি নিয়ে প্রবেশ করে। ঘরের লোকজনের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে ওই চোরকে ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চোরকে আটক করে। পরে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে চোরের নামে মামলা দেয় পুলিশ।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার আমতলী গ্রামে। ওই গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে মঞ্জুরুল ও শেখ ফরিদ। মঞ্জুরুল তার বোনের সাথে বাড়ির পাশে রাস্তায় দাড়িয়ে কথা বলার সময় দুই যুবক তাদের পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেয়ার পরেও সুজন ও হৃদয় নামের সেই দুই যুবক বিষয়টিকে গুজব আতংকের রূপ দিয়ে মারপিট করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার ধামশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। একটি কোম্পানিতে চাকরিজীবী মহিলা মালেকা খাতুন(৩৫)। ঘটনার দিন তার শরীরে জ্বর অনুভব হওয়ার অফিস থেকে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেয়। পথে শরীর বেশি ক্লান্ত লাগায় স্কুলের সামনে বসে পরে। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সে নিজ জন্মস্থান ভোলার ভাষায় কথা বলে। তার কথা সন্দেহ করে ঈদগাহের মিম্বারের সাথে বেধে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করলে তার সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। এবং পুলিশ জানতে পারে মহিলার আচরনে পাগলামি ভাব আছে।

চতুর্থ ঘটনাটিও ঘটে ভালুকা উপজেলায়। জীবনতলা গ্রামে সাবিনা নামের এক মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে দাড়িয়ে হঠাৎ গলাকাটা বলে চিৎকার দেয়। পরে জানা যায় ওই মহিলার হৃদরোগ মানসিক সমস্যাও রয়েছে।

পুলিশ সুপার হুমায়ুন আরও জানান, উল্লেখ্য প্রতিটি ঘটনায় প্রতিটি স্থানের লোকজন সাময়িক আতংকিত হয়ে পরে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনে। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি বিষয় পরিস্কার, যে কোন ঘটনাকে না যেনে উস্কানিকারীদের কথায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি। তাই সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব এ ধরনের ঘটনা দেখামাত্র পুলিশকে জানান। এতে বেঁচে যেতে পারে কারও জীবন। প্রতিহত হবে গুজব সন্ত্রাসীরা।

এসময় জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মুর্শেদা বেগম, ফুলপুর সার্কেল এএসপি দীপক, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ, ডিআইও ওয়ান মোখলেছুর রহমানসহ ময়মনসিংহে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা।