ময়মনসিংহে অপহ্নত উদ্ধার, দুই অপহরণকারী গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কবিরুল ইসলাম(৩৮) নামে এক অপহৃতকে উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশ আল আমিন(২০) ও জাহাঙ্গীর(২৫) নামে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানাধীন জয়ধরখালী গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
অপহৃত কবিরুল ইসলাম চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন একবারপুর পাকাটোলা গ্রামের আইস উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। অপহরণকারী আল আমিন পাগলা থানাধীন জয়ধর খালী গ্রামের ইসমাইল শেখের ছেলে ও জাহাঙ্গীর শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ বেলদিয়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে।
পাগলা থানার পুলিশ পরিদর্শক ফয়েজুর রহমান বলেন,অভিযোগ পেয়ে আমরা দ্রুত তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক অবস্থান চিহ্নত করে অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অপহৃত কবিরুল ইসলাম প্রায় এক বছর যাবত শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ রেলষ্টেশন সংলগ্ন কাজী বাড়িতে বাস করে বৈদ্যুতিক টাউয়ার স্থাপনের কাজ করতেন। গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে কবিরুল ইসলামের মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রী নাজমা খাতুনকে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে জানায় কবিরুলকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ৫০হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় অপহরণকারীরা কবিরুলকে মারধর করে তার স্ত্রীকে মোবাইলের মাধ্যমে কান্নাকাটির শব্দ শোনায়। এতে নিরুপায় হয়ে কবিরুলের স্ত্রী অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে কয়েক কিস্তিতে ৫০হাজার টাকা প্রেরণ করেন। কিন্তু ৫০হাজার টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা আরও ৫০হাজার টাকা দাবী করে। এ অবস্থায় কবিরুলের পরিবারের লোকজন পরামর্শ করে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে গেলে মোবাইল টেকিং করে অপহরণকারীরা পাগলা থানা এলাকায় বলে জানান। পরে কবিরুলের ভাই শফিকুল ইসলাম পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে মঙ্গলবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল টেকিং করে জয়ধরখালী গ্রামে অপহরণকারী আল আমিনের বাড়ি চিহ্নিত করে এসআই আরাফাতের নেতৃত্বে অভিযান চালান। এ সময় অপহৃত কবিরুলকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী চক্রের সদস্য আল আমিন ও জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান খান বলেন, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।