ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এবারই প্রথম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ধুরধুরিয়া গ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন (সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক) এর উদ্যেগে প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৫ঘটিকার সময় ধুরধুরিয়া বাজারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলী।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক, ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধক্ষ্য ও ১১নং রাধাকানাই ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া (শিমুল তরফদার)।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেজর অবঃ ফেরদৌস আলম (শিক্ষাবিদ ও কানাডা প্রবাসী ), হাসানুল হেলাল (শিক্ষানুরাগী ঢাবি), প্রফেসর আঃ কাদের (টিউটর বাউবি ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রী কলেজ), আঃ রাজ্জাক ( মেম্বার ১১নং রাধাকানাই ইউপি) ডা, মেহেদি হাসান কবির (আরএমও প্রান্ত স্পেশালাইজড্ হসপিটাল ময়মনসিংহ), আইয়ুব আলী মাষ্টার (সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১১ নং রাধাকানাই ইউপি), ডা, এম,এইচ কবির (আহবায়ক বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১১ নং রাধাকানাই ইউপি), উমর ফারুক সেলিম ( যুগ্ন-আহবায়ক বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১১ নং রাধাকানাই ইউপি), এনামুল হক সরকার (আওয়ামীলীগ নেতা),মোঃ দুলাল মিয়া (বাংলাদেশ মক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ ) সারোয়ার আলম রোকন (আওয়ামীলিগ নেতা), আবদুল্লাহ আল-মামুন ও আবদুল্লাহ আল-মারুফ (ছাত্রলীগ নেতা)সহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের আয়োজক পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন (সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক) এর সাথে প্রথমবারের মতো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উদ্যেগ নেওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি গর্বের সহিত বলেন, আমি গর্বিত আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান,। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা মৃত সোলায়মান সহ আরো দুই চাচা ১) মৃত সোহরাব আলী ও ২) মৃত আঃ হামিদ অংশগ্রহন করেন। আমার আরো এক চাচা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দীন পিতাঃ মৃত নাছির উদ্দিন সরকার ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে শাহাদাৎবরণ করেন। বিজয়ের এই দিনে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার জন্যই এই সংবর্ধনার আয়োজন করেছি। তিনি আরোও বলেন, সকলে পাশে থাকলে এই গ্রাম থেকে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন ও যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদের সমন্ধে অনেকেই জানেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর জন্য পরবর্তীতেও এমন উদ্যেগ নেওয়ার চেষ্টা করবো।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দীনের ছোট ভাই এনামুল হক সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে ১৫ই ডিসেম্বর শাহাদাৎ বরণ করেন । অতচ বিজয়ের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের কবর অযত্নে অবহেলায় পরে আছে । বিজয়ের এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সু দৃষ্টি কামনা করছি।