মার্কিন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা

দারিদ্র্য হ্রাস, নারী উন্নয়ন ও শিক্ষায় অগ্রগতির মতো অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের একজন নারী হিসেবেও প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি। সোমবার (৩ অক্টোবর) পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রশংসায় সিক্ত হয়েছেন শেখ হাসিনা। উত্তর ভার্জিনিয়ার হোটেল রিৎজ-কার্লটনে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নিবন্ধটি লিখেছেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট পেটুলা ডিভোরাক।

কলামিস্ট ডিভোরাক নিবন্ধ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসা এক দর্শনার্থীর বর্ণনা দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হোটেলের বলরুমে অপেক্ষা করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আবদুল্লাহ নিয়ামি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখাতে নিজের ছয় বছরের কন্যা জয়াকে নিয়ে এসেছেন আবদুল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ডিভোরাক লিখেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি এমন একটি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যে দেশটির জনসংখ্যা রাশিয়ার চেয়েও বেশি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির সময় দরিদ্র একটি দেশ হয়েও ২০২৫ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা অন্তত ২০টি হত্যাচেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ২০০৪ সালের রক্তাক্ত গ্রেনেড হামলার বিষয়টিও উঠে এসেছে নিবন্ধে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, চারবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন ডিভোরাক।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহযোগিতা চেয়েছেন উল্লেখ করে বলা হয়, আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের জীবন খুব ভালো কাটছে না, নিজ দেশে ফিরতে চায় তারা।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ডিভোরাক।

গৃহহীনদের জন্য শেখ হাসিনার ঘর উপহার নীতির প্রশংসা করে নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইট ও টিনের ঘর হলেও আবাসনকে মানবাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামেই দলিল করে দেওয়া হচ্ছে বাড়িগুলো। যদি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়, তাহলে নারীই বাড়িটির মালিক হবেন, পুরুষ নয়। এভাবে নারীর অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের জন্য বিনিয়োগ দেশটিকে আরও এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।