ভূয়া জন্মদিন ঘিরে নূতনের ক্ষোভ

নূতন। এদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক নস্টালজিক নাম। ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকা হিসেবে আধুনিক নৃত্যর প্রবর্তকও তিনি। স্বনামধন্য এই অভিনেত্রী অভিনয়ের আগেই নৃত্যে পারদর্শী ছিলেন। আবেদনময়ী ঠোঁটের লাস্যময়ী নূতন ১৯৬৯ সালে মুস্তফা মেহমুদের ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ছবির একজন সফল অভিনেত্রী। সর্বশেষ বদিউল আলম খোকনের ‘হিরো দ্যা সুপারস্টার’ সিনেমায় তাকে দেখা গিয়েছিলো। এরপর দীর্ঘদিন তিনি প্রায় লোকচক্ষূর আড়ালে। বিশেষ করে চলমান করোনার কারণে সম্পূর্নই গৃহবন্দি রেখেছেন নিজেকে। যদিও এরআগে থেকেই তিনি আড়ালে। মাঝে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দু-একদিন দেখা গেলেও ভোটের পর থেকে নিজেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।

হঠাৎ করেই ১২ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জন্মদিন উপলক্ষে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পরে এ নিয়ে মুঠোফোনে তাকে উইস করতে গেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। বলেন- আজ (১৩ নভেম্বর) আমার জন্মদিন না। কে কেন কি উদ্দেশ্যে এ ধরনের পোস্ট দিয়েছেন আমি জানি না। গত মার্চ মাসের ৫ তারিখে আমার জন্মদিন গিয়েছে, তাই অনুরোধ যারাই উইস করেছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা। তবে যারা পোস্ট দিয়ে আমাকে স্মরণ করেছেন তাদের কাছে অনুরোধ দয়া করে আমি যে আর্টিস্ট এটাকে মনে রেখে অন্তত প্রকৃত জন্মদিনটা ধরে সম্মান জানানো বা স্মরণ যাই বলি না কেন করা উচিৎ। অবশ্যই তারা যদি মনে করে ইন্ডাস্ট্রির সোনালী অতীতে আমিও অংশ ছিলাম তাহলে।

আড়ালে থাকার কারণ কি এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছবি ‘ওরা ১১ জন’র নায়িকা নূতন অভিযোগ করে বলেন, কেউ আমার খোঁজ নেয় না। একটাবার ফোন করেও খবর নেয় না। তারপরও ভুয়া জন্মদিন হলেও ওমর সানী ফোন করেছিলো। ওকেও বলে দিয়েছি ৫ মার্চ আমার জন্মদিন, আজ নয়। তাছাড়া সকাল থেকে অনেক ভক্ত ও প্রিয় সব লোকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে উইস করেছেন। এটা ভালো তবে তাদের বিভ্রান্ত করা উচিত না।

করোনার মধ্যে সময় কাটছে কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বলেন, ঘরের কাজকর্ম আর ইবাদত করেই সময় পার করছি। সবার জন্য দোয়া করছি। খুব বেশি মনে পড়লে কাছের সহকর্মীদের ফোন করছি। কিছুদিন আগে ববিতা আপা, আলমগীর ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম। যদিও তারা পরে আর ফোন দিয়েও খবর নেন নি। আসলে সবাই আমরা ব্যস্ত, দুইটাকা খরচ করে কেউ কারো খবর নেই না। হয়তো আমারও অনেক সহকর্মীদের খবর নেওয়া উচিত আমিও নিতে পারি না। এক ধরনের যান্ত্রিক অস্থিরতায় যাচ্ছি সবাই আমরা।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নূতন এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আমরা যারা সিনিয়র আছি যদি মনে হয় ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কিছু অবদান আছে তাহলে দয়া করে খুঁজে খুঁজে তাদের সামনে আনুন তাহলে নতুনরা জানতে পারবে। অতীত নিয়ে নতুনদের জানার মধ্য দিয়ে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়, ভঙ্গুর এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা এখন খুব জরুরি।