ভারতে নারীদের সাহায্য করে ১০ শতাংশেরও কম পুরুষ

ঘরের কাজে নারীদের সাহায্য করেন ভারতে ১০ শতাংশেরও কম পুরুষ

রতে শ্রম বিভাজন খুব পরিচিত একটি বিষয়। কর্মক্ষেত্র থেকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে নানা কাজের ক্ষেত্রে একটু নজর দিলেই এই শ্রম বিভাজনের বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে।

চাকরি-বাকরি, অফিস-আদালত, দোকান-পাট, হাট-বাজার এ ধরনের বাইরের কাজই পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি রান্না করা, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় কাচা, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি যাবতীয় ঘরোয়া কাজ অলিখিত ভাবেই বাড়ির মেয়েদের দায়িত্ব।

বর্তমানে চাকরিজীবী মেয়েরা ঘরের বাইরে নানা ধরনের কাজে বাড়ির পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে অংশগ্রহণ করলেও ঘরের কোনও কাজে এখনও হাত লাগান না অধিকাংশ পুরুষ।

সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে ভারতের ১০ শতাংশেরও কম পুরুষ রান্না করা, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় কাচার মতো ঘরোয়া কাজে হাত লাগান বা নারীদের সাহায্য করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই সমীক্ষার ফলাফল সামনে এসেছে। এই সমীক্ষায় ৬ বছরের বেশি বয়সী ৪৫ লাখেরও বেশি পুরুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের সারাদিনের কাজ-কর্মের খুঁটিনাটি বিষয় জিজ্ঞাসা করে তার উত্তরের ভিত্তিতে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৮৪ শতাংশ নারী সারাদিনে এমন কিছু পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেন যার জন্য তারা কোনও বেতন পান না। দেশের পুরুষদের ক্ষেত্রে আবার এ বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৮০ শতাংশ পুরুষ সারাদিনে যা কাজ করেন তার জন্য তারা বেতন বা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ, দেশের ৮০ শতাংশ পুরুষের দৈনিক পরিশ্রম বেতনভিত্তিক। অপরদিকে দেশের ৮৪ শতাংশ নারী বিনা পারিশ্রমিকে সারাদিন নানা পরিশ্রমসাধ্য কাজে নিযুক্ত থাকেন।

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৬.১ শতাংশ পুরুষ দিনের কিছু সময় রান্নার জন্য ব্যয় করেন, মাত্র ৪ শতাংশ পুরুষ ঘর পরিস্কারে এবং ৩ শতাংশ পুরুষ কাপড় কাচার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন।

এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে কাজের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য শুরু হয় একেবারে শৈশব থেকেই। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেরা দিনের অধিকাংশ সময় হয় পড়াশোনা না হয় খেলাধুলা করে কাটায়। সেখানে সমবয়সী মেয়েদের অনেক বেশি সময় দিতে হয় ঘরোয়া কাজে।

দেশের ৮৭ শতাংশ পুরুষ অবসরের বা বিশ্রামের জন্যে যথেষ্ট সময় পান। এক্ষেত্রে দেশের ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী অধিকাংশ নারী ঠিক মতো গোসল বা খাওয়া-দাওয়ার সময়ও পান না।