বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটিরও বেশি

বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটিরও বেশি

বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটিরও বেশি। শুধু ২০১৯ সালে সংঘাত ও বিভিন্ন দুর্যোগে নিজ দেশেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট সেন্টার (আইডিএমসি) ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উঠে আসে। খবর এএফপি।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শঙ্কার বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এ মানুষের সংখ্যা অন্য দেশে শরণার্থীদের চেয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ বেশি।

আইডিএমসির পরিচালক আলেক্সান্দ্রা বিলাক এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষজন বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ, তারা যেসব জনাকীর্ণ ক্যাম্প, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বসতিতে থাকছে, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই বললেই চলে। এ অবস্থার মধ্যেই আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস। ফলে এসব মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হবে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সিরিয়া, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইথিওপিয়া ও দক্ষিণ সুদানে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে ৮৫ লাখ মানুষ। এ নিয়ে সংঘাতের কারণে মোট অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখে। এর মধ্যে নয় বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে শুধু সিরিয়াতেই নিজ দেশের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অর্ধকোটির বেশি মানুষ।

এনআরসির প্রধান জান ইগেল্যান্ড জানান, বছরের পর বছর ধরে সংঘাত ও দুর্যোগ কোটি কোটি মানুষকে তাদের মূল আবাসস্থল থেকে উত্খাত করছে। সামগ্রিকভাবে আমরা সবচেয়ে সংকটাপন্ন এসব মানুষের অধিকাংশকেই সুরক্ষা দিতে পারছি না। এ অবস্থায় সবাইকে একসঙ্গে করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে চলমান মহামারীর মধ্যেই যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরো জানান, সাইক্লোন ফণীর কারণে দক্ষিণ এশিয়া, সাইক্লোন ইদাই ও কেন্নেথের কারণে মোজাম্বিক এবং হারিকেন দোরিয়ানের কারণে বাহামাসে নিজ আবাসস্থল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ। এছাড়া গত বছর আফ্রিকায় ভারি বর্ষণ ও বন্যায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো অন্তত ২০ লাখ।

তবে বিলাক জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, অনেক সময় তারা আবার নিজ গৃহে ফিরে আসতে পারছে। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপত্তার জন্য সরকারই তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে আসছে। ফলে দুর্যোগ শেষে তাদের বাড়িঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত না হলে তারা আবার ফিরেও যেতে পারছে।

কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিলাক। কারণ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে কোনো সরকারের পক্ষে অনেক মানুষকে এক আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়তো সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় কভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলা ও সংকটাপন্নদের সহায়তার মধ্যে সমন্বয় সাধন বেশ জটিল হয়ে দাঁড়াবে।