বিদ্যুৎ আছে খুটিঁ নেই, লাইট জ্বলে লো ভল্টেজে! বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ১৭ ডিসেম্বর :
“ও মানিক কি বাত্তি জ্বালাইলি সবতো ফকফকা” ৮০ দশকের এই বিজ্ঞাপনটি এখন আর চোখে পড়ে না। কারণ এখন দেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার। তবে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চুরখাই এলাকার একটি গ্রামে ফিলিপস লাইট লাগিয়েও আলোর দেখা মিলছে না। বৈদ্যুতিক সব কিছু চলে লোভল্টিজে। ফলে লাইট, বৈদ্যুতিক পাখা, ফ্রিজ, টিভি, পানির মটরসহ প্রতি নিয়ত জ্বলে নষ্ট হচ্ছে। ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

বিদ্যুতের খুটিঁ ছাড়া গাছের উপর দিয়ে একতারে টানা হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। লো ভল্টেজে জ্বলেনা লাইট, ঘুরে না ফ্যান। প্রতিমাসে বিল আসলেও বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেনা সদর উপজেলার চুরখাই মধ্যপাড়া বাগানবাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার।

কম ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট, তার পুড়ে যাওয়াসহ নানা বিড়ম্বনায় গ্রামবাসীকে প্রতিমাসেই গুনতে হচ্ছে অতিরক্ত মিস্ত্রি খরচ। দিনের বেলা যেনতেনভাবে চললেও রাতে কোন কাজই করেনা এ বিদুৎ লাইন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ লাইন থাকা সত্বেও হারিকেন, চার্জ লাইটের আলোয় পড়ালেখা করে। নিজেদের কষ্টের কথাগুলো অভিযোগ তুলে এমনভাবেই জানাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

ভুক্তভোগী মনসুর বলেন, আমি গত মাসে ১৮৫ টাকা বিদুৎ বিল দিয়েছি। আমার ঘরে ২টি ফ্যান ২ টি লাইট আছে। কিন্তু লাইট, ফ্যান না চলেই এই বিল দিতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন আলতাফ, সাত্তার আকন্দ। তারা আরও অভিযোগ করেন দিনের বেলা ফ্রিজ চলে না, রাতে চলে। এরকম সমস্যা নিয়েই দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ আমরা মধ্যপাড়া বাগানবাড়ী এলাকার মানুষ দিন পার করছি।

একই গ্রামের সুরুজ আলী বলেন, এখানে বিদ্যুতের লাইন নিতে আমাদের টাকায় তার, খাম কিনা হয়েছে। লাইন প্রতি ৬-৭ হাজার টাকা করে নিয়েছে বিদ্যুতের লোক। দিয়েছে একটি করে মিটার। বিদুৎ ব্যবহার না করেও বিল দিতে হচ্ছে আমাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ পিডিপি’র ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ বলেন, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ওই এলাকার বিদ্যুতের কোন সমস্যাই থাকবে না। নতুন লাইনের জন্য একটি প্রজেক্ট ধরা হয়েছে। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে কাজ ধরা হবে। কোন প্রকারের লো ইস্ট্যান্ডার্ড থাকবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।