বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রায় সবকটি রাজ্য

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রায় সবকটি রাজ্য। এদিন সকালে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়, মুম্বাই, কর্নাটকসহ দেশের বহু শহরে প্রতিবাদে সামিল হয়ে বেঙ্গালুরুতে আটক হন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমকে সংবিধান নিয়ে কথা বলার সময় আমাকে অটক করে পুলিশ। আমার হাতে গাঁধীজির একটা ছবি ছিল।’ তার প্রশ্ন দেশে কি স্বৈরতন্ত্র চলছে? পাশাপাশি তার অভিযোগ, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই প্রতিবাদ করছিলাম। কোনও অশান্তি হয়নি। কেন্দ্রের আঙ্গুলিহেলনেই পুলিশ এমন কাজ করছে।’ অন্য দিকে দিল্লিতে আট্ক করা হয় সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ করাটা, ডি রাজা এবং স্বরাজ ইন্ডিয়া-র সর্বভারতীয় সভাপতি যোগেন্দ্র যাদব। অভিনেতা কমল হাসান টুইট করে রমচন্দ্র গুহ এবং যোগেন্দ্র যাদবদের সমর্থন জানান।

রামচন্দ্র গুহের আটকের তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সিএএ এবং অনআরসি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলায় দেশের একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদকে আটক করা হল। এই সরকার ভয় পেয়ে গিয়েছে।’ অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়াও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ দিন সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির লালকেল্লা এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকা। ১৪৪ ধারা চলছে দিল্লির কয়েকটি জায়গায়। তার মধ্যে লালকেল্লা চত্বরও রয়েছে। এছাড়া দিল্লির বেশ কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১৮ টি মেট্রো স্টেশন। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। অন্য দিকে, বিহারেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

একইসাথে এদিনের প্রতিবাদী আন্দোলনে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। পুলিশের গাড়ি, বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। চণ্ডীগড়েরও ছাত্ররা প্রতিবাদ মিছিল করেন। অন্য দিকে, বড়সড় গন্ডগোলের আশঙ্কায় মুম্বইয়ের ক্রান্তি ময়দানে নিরাপত্তা আঁটসাঁট।