বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন দিলো মার্কিন কংগ্রেস

জো বাইডেনকে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও কমালা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বিবিসি এ তথ্য জানায়।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে অধিবেশন চলাকালীন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা সেখানে ঢুকে সশস্ত্র হামলা চালান। এ ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। সেসময় অধিবেশন স্থগিত হয়ে গেলেও পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর তা আবারও শুরু হয়।

এতে মার্কিন সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস পেনসিলভানিয়া এবং অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ভোটের আপত্তি খারিজ করে দিলে ইলেকটোরাল ভোট অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জো বাইডেনকে জয়ী হিসেবে ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ করে ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। সহিংসতার শুরুতেই পুলিশের গুলিতে এক নারী নিহত হন। পরে ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আহত আরও তিনজনের মৃত্য হয়।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জো বাইডেনকে জয়ী হিসেবে ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ করে ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। এর পরপরই ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করা হয়।

বুধবার আইন প্রণেতারা যখন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন ঠিক সে সময়েই ট্রাম্পের শত শত সমর্থক দেশটির আইনসভা কংগ্রেস ভবনে ঢুকে সহিংসতা চালায়।

এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কারফিউ ভঙ্গ করার দায়ে। ১৮১২ সালে যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন এমন আগ্রাসনের সাক্ষী হলো। এমন অস্থিরতার মধ্যে পড়তে হবে সেটা জো বাইডেন হয়তো কল্পনাও করেননি।

নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বাইডেনকে। গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ভোট। তবে ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরও নিজেকে পরাজিত মানতে নারাজ ছিলেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি বাইডেনের জয়ী হওয়ার বিষয়টিও মেনে নিতে পারেননি। তার অভিযোগ, নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি করে তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে নিরাপত্তা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা অধিবেশন বন্ধ থাকার পর আবারও তা পুণরায় শুরু করেন আইনপ্রণেতারা। এরপর প্রথা অনুযায়ী, জো বাইডেনকে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রধান রবার্ট কন্টি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি পাইপ বোমা ও এক কন্টেইনার ভর্তি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে যাদের অধিকাংশই কারফিউ ভাঙার দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন।

এদিকে, ওয়াশিংটনে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি থাকবে। অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরে কারফিউ জারি থাকবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কারফিউ দেয়া, জরুরি পণ্য সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

পার্লামেন্ট ভবনে সহিংসতার বিষয়ে ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেন, ‘অনেকেই অস্ত্রসহ এখানে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিতে এসেছে। তারা অস্ত্রের পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, ইট এবং বোতলও নিক্ষেপ করেছেন।’

এদিকে পার্লামেন্ট ভবনে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের তিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস, সোশ্যাল সেক্রেটারি রিকি নিকেটা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ স্টেফানি গ্রিশ্যাম বুধবার রাতে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।