বংশীবাদক এক বাউল রিক্সাচালক মদিনা মিয়া

ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দেওয়া বাউল মদিনা এখন রিক্সা চালক। সংক্রমণ করোনা ভাইরাসের কারনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত সাময়িক বন্ধ থাকার কারণে এসব পর্যটন স্থানগুলো এখন পর্যটকশূন্য, আসছেন না কোন দর্শনার্থী, বাজছে না তার হাতের বাঁশের বাঁশি। ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দিয়ে যা পেতেন তা দিয়েই চলতো বাউল মদিনার অভাবের সংসার।
প্রায় সময় পর্যটকশূন্য স্থানগুলোতে গিয়ে অপেক্ষা করতেন বাউল মদিনা কখন আসবে পর্যটক গাইবেন গান, বাজবে বাঁশের বাঁশি। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও সংক্রমণ করোনা ভাইরাসের কারনে খোলা হয়নি এসব পর্যটন স্হানগুলো। আসছেন না কোন পর্যটক, হচ্ছে না আয়, চলছে না সংসার। অভাবের তাড়নায় সংসারের প্রয়োজনে নিরুপায় কর্মহীন বাউল মদিনা ৫০ বছর বয়সে ধরেছেন রিক্সার হেন্ডেল।
বাউল মদিনার সাথে সম্মুখে আলাপ করে জানা যায় ছোটবেলা থেকেই শখ করে গান ও বাঁশি বাজাতেন, ধীরে ধীরে গান ও বাঁশি বাজানোটা তার নেশায় পরিনত হয়। আর এই নেশাটা এখন পেশায় পরিনত হয়েছে। পর্যটন স্হানগুলোতে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দিয়ে কিছু বকশিস পেতেন তা দিয়েই চলতো তার ছোট অভাবের সংসার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে বন্ধ হয়ে যায় তার কর্মস্হল। সংসারের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বাঁশি রেখে ধরেন রিক্সার হেন্ডেল। সুখের সময়ে অনেকেই মনের আনন্দে বাউল মদিনার গান ও বাঁশি বাজানো শুনেছেন, কিন্তু দুঃখের সময়ে কেউ শোনে না বাউল মদিনার নিরব কান্না।