ফুলপুরে ২য় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘স্বপ্নের নীড়’ পাচ্ছে ৩০ পরিবার

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে সরকার ‘ঘর নাই বাড়ি নাই’ এমন পরিবারগুলোকে মাথা গোঁজার ঠাই করে দিতে দেশব্যাপী গৃহহীনদের জমিসহ গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বপ্নের ঠিকানা পেতে যাচ্ছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৩০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। এসব পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে উন্নত মানের সেমি পাকা বাড়ি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে যাদের ছিল না একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, ছিল না এক খণ্ড জমি; অন্যের জমিতে খুপরি চালাঘর বেঁধেই যাদের সংসার করতে হয়। আবার একটু মেঘ-বৃষ্টি হলেই যাদের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াত।তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এইসব ঘর দেয়া হচ্ছে। ক শ্রেণির আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ফুলপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি সেমি পাকাঘর। যার প্রতিটি ঘরের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরকারি জমি নির্ধারণ করে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব পাকাঘর। দুই কক্ষের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঘরের সাথে থাকছে রান্নাঘর ও বাথরুম। এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলাজুড়ে খাসজমি চিহ্নিত ও দখলমুক্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে এইসব গৃহ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তত্ত্বাবধানে ঘর নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। ফুলপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ফুলপুর ইউনিয়নের বাশঁতলা ও নাকাগাঁও ০৮ টি, রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের দোয়াই ০৭ টি ও বালিয়া ইউনিয়নের সলংগা ১৫ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ২০ জুন ৩০টি পরিবারকে উপহার দেওয়া হবে নতুন ঘরের চাবি ও জমির দলিল। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে ৪৪টি, ভাইটকান্দিতে ৪টি, রহিমগঞ্জে ১০টি ও পয়ারী ইউনিয়নে ৮টিসহ মোট ৯৭টি ঘর জমিসহ গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘স্বপ্নের নীড়’ পাওয়া কয়েকজন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আমরা ঘর পাচ্ছি। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়ে বড় উপকার করেছেন। তিনি দেশের মা। তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেন তা আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি।’

ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির গৃহ নির্মাণের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে ফুলপুর উপজেলায় ৩০টি গৃহের অনুমোদন দেওয়া হয়। টিনের চাল, দেয়াল ও মেঝে পাকা বাড়িগুলো সরকার নির্ধারিত একই ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িতে থাকছে রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, বারান্দাসহ অন্যান্য সুবিধা। ২০ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও ভূমি হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধনের পর ফুলপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৩০টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে নতুন ঘরের চাবি ও জমির দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্র।