ফুলপুরে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
প্রায় দেড় বছর পর রবিবার খুলেছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা। আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্কুল প্রাঙ্গণ। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয়েছে ক্লাস। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ভুলে স্কুল-কলেজে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে। । সেই সাথে কোমলমতি ছাত্র/ ছাত্রীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে গিয়ে ঈদের উৎসবের মত আনন্দে উল্লাস করছে।
বই-খাতা নিয়ে সকাল সকালই স্কুলে হাজির শিক্ষার্থীরা। অনেক দিন পর পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। সরকারের নির্দেশনা পালন করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রবেশ করানো হচ্ছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার সব নিয়ম মানছেন তারা। স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। স্কুলগুলোর ফটকে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে প্রবেশ করানো হয়েছে। তাদেরকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফটকে স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি-না, তা পরিদর্শন করেন, ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহী দিলশাদ এলিন, উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার পরিতোষ সূত্রধরসহ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ।

ফুলপুর পৌরএলাকার দিউ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চড়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমুয়াকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলপুর পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটা স্কুলে দেখা গেছে স্কুল খোলা থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল প্রচন্ড। বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী একে ঈদের আনন্দের সাথে তুলনা করেছে।

এদিকে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্লাসে প্রবেশ করার আগে তাপমাত্রা মাপক যন্ত্র দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের মাক্স বিতরণ করেছেন, এবং প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসিয়েছেন। তারা বলছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে রুটিন করেছেন তারা সে ভাবেই মেনে চলছেন।

অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসার কারণে বেশ খুশি হয়েছেন। বিদ্যালয় খুলে দেবার কারনে তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের লেখাপড়ায় যেন আর কোন বিঘ্ন না হয় সে ব্যাপারে সরকার অবশ্যই চেষ্টা করবেন। শুধু বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাস করে মনের তৃপ্তি মিটে না। তাই স্কুলে আসার মজাই আলাদা।