ফুলপুরে লকডাউন সফল করতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে কঠোর  লকডাউন। জনস্বার্থে সরকার ঘোষিত লকডাউন কার্যকরে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার জনসচেতনতায় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। লকডাউন শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে  মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন। যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়কে  চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও টহল দিতে দেখা গেছে। এসময় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ও সরকারি আদেশ অমান্য করার অপরাধে  কয়েকজনের বিরুদ্ধে  মামলা করে  জরিমানা আদায় ও অনেককেই সতর্ক করেছে প্রশাসন। সেইসাথে লকডাউনে ঘর থেকে বের না হওয়াসহ সরকারি নির্দেশনা হ্যান্ড মাইকে প্রচার করা হয়েছে। ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের ১ম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরকার নির্ধারিত লকডাউন মানাতে এসব কাজ করেন প্রশাসন।

ফুলপুরে বৃহস্পতিবার ১ম দিন লকডাউন নিশ্চিত করার জন্য  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেশ চন্দ্র সরকার ও ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন’র নেতৃত্বে প্রশাসন মাঠে নামে। সকাল থেকে তারা ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড, থানা রোড, হালুয়াঘাট রোড ও শেরপুর রোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে  অভিযান চালিয়ে খোলা দোকান বন্ধ করে দেন এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে বেচা কেনার জন্য বিভিন্ন ঔষধের ও নিত্যপ্রয়োজনিয় পণ্যের দোকানকে বলেন। এসময় তারা লকডাউন নিশ্চিতে সরকারী আদেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শীতেষ চন্দ্র সরকার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সরকারী আদেশ অমান্য ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা করে তা আদায় করেন। সেই সাথে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারী আদেশ মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য কয়েকজনকে  সর্তক করা হয়। এসময় সহযোগিতা করেন ফুলপুর থানা পুলিশ ও যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকগণ।

 ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তবে  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনে মানুষ সরকারী আদেশ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এবং মাস্ক না পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা বাড়ানোসহ আরও কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।লকডাউন বাস্তবায়নে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।