ফুলপুরে যাত্রীদের জিম্মি করে সিএনজি সিন্ডিকেটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুরে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে প্রকাশ্য নৈরাজ্য চলছে।চালকের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছেছে, যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। যেমন খুশি তেমন ’স্টাইলে ভাড়া হাঁকিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। চালকদের এই স্বেচ্ছাচারিতা আর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। ফুলপুরে যাত্রীদের জিম্মি করে সিএনজি সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও তা যেন দেখার কেউ নেই। তাছাড়াও যাত্রী ও চালক কেউ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি। বেশিরভাগ যাত্রী ও চালকের নেই মাস্ক। সেই সাথে সিএনজিতে বসে গাদাগাদি করে।

সরেজমিনে আজ রবিবার দেখা যায় ফুলপুর থেকে সিএনজি অটোরিকসা যেখানে ময়মনসিংহে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেখানে এখন যাত্রীদের জিম্মি করে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। মাহেন্দ্র ৪০ টাকার জায়গায় নিচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। ফুলপুর গোল চত্বর থেকে নকলা পর্যন্ত ৪০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে সিনএনজি সিন্ডিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে এখন নিচ্ছে ৮০ টাকা! ফুলপুর থেকে গোরদার বাজার শেরপুর,এবং ফুলপুর থেকে বালিয়া,বালিয়া বওলা থেকে ফুলপুর, তারাকান্দা এবং তারাকান্দা থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়ক সহ অনান্য রোডের সিএনজি ভাড়াও লাগামহীন।
অসাধু চালকদের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী প্রকৃতির চালকদের হাতে শারীরিক ভাবে নিগৃহীতের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা।আবার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় চালকদের উপরেও চড়াও হচ্ছে যাত্রীরা।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী জাকারিয়া বলেন, ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহে যেতাম ৫০ টাকা দিয়ে। সেখানে আজ ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। নকলাগামী যাত্রী কামাল হোসেন জানান আগে ফুলপুর থেকে নকলা  যেতাম ৪০ টাকা দিয়ে আর এখন তার দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে।সেইসাথে আসা যাওয়া দ্বিগুণ ভাড়ার কোন প্রতিবাদ করলে উল্টো খারাপ আচরন করে।

জনৈক সিএনজি যাত্রী অভিযোগ করে বলেন সিএনজি চালকরা যাত্রীদের মুখের দিকে না তাকিয়ে ভাড়া হাঁকবেন অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে তা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে ভাড়া সন্ত্রাস দূর করা যাবে না।সিএনজির যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

ডাবল ভাড়া নেবার কি কারণ জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেনি কোন সিএনজি চালক।যাইলে যান না যাইলে বাদ দেন,কিছু করার নাই এমন আগ্রাসী আচরণ তাদের।

এসব দেখ-ভাল করার দায়িত্বে যারা রয়েছে তাদের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে যাত্রীরা। লাগামহীন ভাড়া নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন সাধারণ জনগণ এবং দ্রুত যাতে বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে সেই দাবী জানিয়েছেন তারা।