ফুলপুরে বৃদ্ধ বাবাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা পুত্র ও পুত্রবধুর

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বৃদ্ধ পিতার সেবা করতে অতিষ্ঠ হয়ে আর প্রতিদিন বিছানা নষ্ট করে ফেলার অভিযোগে শাহাবুদ্দিন নামে এক অসহায় বৃদ্ধ বাবাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে তার ছেলে ও বউ।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর রাতে ঢাকা- শেরপুর মহাসড়কের ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর চেরাগআলী মিল সংলগ্ন স্থানে।

জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ শাহাবুদ্দিন গত ২০ বছর যাবত ডাঃ নাজমুল আলম লিটন নামে এক চিকিৎসকের জমিতে ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৮) ও পুত্রবধু নাসিমা বেগমকে নিয়ে বসবাস করে আসছিল। তার স্থায়ী ঠিকানা শেরপুর জেলার সদর উপজেলা জঙ্গলদি গ্রামে বলে জানিয়ে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী সেকান্দর আলী জানান বয়স যত বাড়ছে নানা রোগ বাসা বাঁধছে শাহাবুদ্দিনের শরীরে। এখন পুরোপুরি অচল।

ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। সোমবার ভোরে বৃদ্ধ বাবা শাহাব উদ্দিনকে তার ছেলে রফিকুল ইসলাম ও পুত্রবধূ নাসিমা বেগম গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার বাসনা নিয়ে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে নিয়ে যায়। তখন বৃদ্ধ পিতার চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন আসতে থাকলে রাস্তার মাঝখানে ফেলে রেখে ছেলে ও ছেলের বউ পালিয়ে যায়। পরে মৌ আক্তার পলি নামে এক পথচারী পুলিশের ৯৯৯ হেল্প লাইনে ফোন করেন । ৯৯৯ থেকে বিষয়টি ফুলপুর থানার ওসিকে জানালে ফুলপুর ওসি ইমারত হোসেন গাজী সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বৃদ্ধ পিতাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দিন চলত এ বৃদ্ধ। সংসার জীবনে তার দুই ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও মিরাশ উদ্দিন (৩৫)। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। দুই ছেলেই বিবাহিত। বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথেই থাকেন তিনি। ছোট ছেলে ফুলপুরে একটি রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। বাবার কোনো খোঁজখবর রাখেন না ছোট ছেলে মিরাশ।রফিকুল ইসলামের চার সন্তান। অভাবের সংসারে বৃদ্ধ বাবার ওষুধ ও খাবার দিতে হিমশিম খেতে হয়। এ ছাড়াও বৃদ্ধ বাবার ব্যথায় চিল্লাচিল্লিতে সারারাত ঘুমানো যায় না। বৃদ্ধ বাবার প্রতি রাগান্বিত হয়ে এ কাজ করছেন বলে স্বীকার করছেন পুত্রবধূ। তবে পুত্রবধূ নাছিমা খাতুন এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, অভাবের জন্য ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে। ভবিষ্যতে শ্বশুরের দেখাশোনা করতে অসুবিধা হবে না। তার দাবি নিজের জমি নেই, করোনার জন্য ঢাকা শহরে কোনো কাজ নেই। এলাকায় সামান্য কাজকাম করে একমাত্র স্বামীর উপার্জনে চলে ছয়জনের ভরণপোষণ। তা ছাড়াও প্রায় ছয় মাস ধরে শশুরের বয়স্কভাতা পায়নি।

ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী পুত্রবধূ নাছিমাকে বলেন, শ্বশুরের প্রতি আর যেন এমন না হয়। নাছিমা খাতুন তখন দুঃখ প্রকাশ করলে ওসি থাকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। ফুলপুর থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে এ বৃদ্ধকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় একটি নির্জন ঘরে শাহাবুদ্দিন অসুস্থ শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছেন। তার সাথে কথা বলার সময় ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় তিনি বলেন প্রথমে গলায় দাও দিয়ে ফেস দিয়ে পরে রাস্তায় নিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল ছেলে ও ছেলের বউ।