ফুলপুরে বিধবার ভাতার আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধার, দোষীদের শাস্তি চায় এলাকাবাসি

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ : ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট রুহল আমিনের নিকট থেকে এক বিধবার আত্মসাতকৃত ১৩ হাজার ৫৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। টাকা উদ্ধার করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকৃত গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেছে এলাকাবাসি।

জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের ছোট শুনই গ্রামের বিধবা গুল রেহান ফুলপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপকারভোগী বই নং-১৯৮২৫ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর-৭৫৫৫৫। গত ২৮ নভেম্বর ভাইটকান্দি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট রুহুল আমিনের কাছে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে গেলে ভাতার বইয়ে ভুল থাকার কথা বলে বইটি রুহুল আমিন নিজের কাছে নিয়ে নেন এবং ১০ দিন পর আবার বইটি ফিরিয়ে দেন। পরে টাকা উঠাতে গিয়ে বিধবা গুল রেহান জানতে পারেন তার টাকা নেই। অন্য কেউ এই টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। এব্যাপারে মঙ্গলবার ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ভুক্তভোগী ওই নারী তার ভাতার টাকা গোপনে উঠিয়ে ভাইটকান্দি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট রুহল আমিন আত্মসাৎ করেছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বলেন। মোছাঃ গুল রেহানের অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলপুর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শিহাব উদ্দিন খানের তৎপরতায় ও ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তার সহযোগীতায় উক্ত আত্মসাতকৃত সাড়ে ১৩ হাজার টাকা ও একই নামে আরেকটি ভাতার বই উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকা সন্ধ্যায় প্রকৃত গ্রাহক গুল রেহানের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও জানা যায়, গুল রেহানের নাম ঠিকানা ও একই বই নং হিসাব নং ব্যবহার করে অন্য কেউ ব্যাংক এশিয়া থেকে টাকা উঠিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। কে বা কারা এই টাকা আত্মসাৎ ঘটনার সাথে জড়িত তা এখনো প্রকাশ হয়নি। প্রকৃত অপরাধিকে সনাক্তে তদন্ত চলছে।

ফুলপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে আত্মসাতকৃত টাকা ও অন্য বইটি উদ্ধার করে প্রকৃত গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এরসাথে কে বা কারা জড়িত ও কি ভাবে এমন হয়েছে তা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।